বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯১ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটের পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে দুই দলেই উৎকণ্ঠা ছিল। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে বড় উদ্বেগ ছিল আসন ধরে রাখা নিয়ে।

অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও এই আসনের সাবেক সাংসদ শফি চৌধুরী হঠাৎ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় সদস্য পদে থাকা শফির প্রার্থিতায় বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল বিএনপি। ভোটে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন কি না, এ নিয়েও দুর্ভাবনা ছিল। এমনকি ভোটের আগের দিনও নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কড়া নির্দেশনা ছিল।

বড় দুই রাজনৈতিক দলের এই উদ্বেগের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বিঘ্নে নির্বাচনী প্রচারণায় সরব ছিলেন। তাঁর পক্ষে পার্টির মহাসচিবসহ দলীয় সাংসদেরাও প্রচারণায় অংশ নেন। এতে শুরু থেকেই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আভাস মেলে। তবে ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি কম দেখে তিনটি রাজনৈতিক দলেই আরেক দফা উদ্বেগ তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজন বলেন, ভোটার উপস্থিতি কম হবে—এমনটি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। এ জন্য তিনটি উপজেলার সাংগঠনিক কমিটিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থক ভোটারদের ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তার প্রস্তুতি আগেভাগেই নেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে বিগত কয়েকটি উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে অন্তত ৩০ শতাংশ ভোট গ্রহণের লক্ষ্য ছিল দলটির। সেই লক্ষ্য যথাযথভাবে পূরণ হওয়ায় দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয় নিয়ে তাঁরা অনেকটাই নির্ভার ছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ১৪৯টি ভোটকেন্দ্র ছিল। সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯১ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটের চিত্র এ রকমই হয়। বিএনপি ভোট থেকে সরে যেয়ে জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে, সেটি আবারও প্রমাণ হলো।
নাসির উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ

বিজয়ী আওয়ামী লীগ-মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান (নৌকা) পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল) ২৪ হাজার ৭৫২ ভোট। অপর দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী ৫ হাজার ১৩৫ ভোট ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া পেয়েছেন ৬৪০ ভোট।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার ভোটের দুই দিন আগে নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার দলীয় নির্দেশ জারির পর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, মোট ভোটারের অন্তত ৭০ ভাগ ভোটার ভোটে অংশ নেবেন না। এঁরা সবাই বিএনপির সমর্থক।

ভোটের পর বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে বলে মনে করছেন সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই ভোটে বিএনপি ছাড়া ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের আরেকটি নজির দেখা গেল। একই সঙ্গে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করা প্রার্থীর পরিণতিও দেখা গেল।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান নির্বাচনে ‘ভোটার খরা’ বিষয়টি মানতে নারাজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটের চিত্র এ রকমই হয়। বিএনপি ভোট থেকে সরে যেয়ে জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে, সেটি আবারও প্রমাণ হলো। আর আমাদের জন্য শুধু দলীয় প্রার্থীর জয়েই সন্তুষ্টি নয়, শতভাগ ইভিএমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ঝঞ্ঝাট ভোট হয়েছে। এটাই বড় সন্তুষ্টি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন