রানা প্লাজা ধসের ঘটনার ৯ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গাইবান্ধায় বসবাস করা হতাহত মানুষের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর যাঁদের সন্ধান মেলেনি, তাঁদের পরিবার কোনো সহায়তাই পায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে জেলার নারীসহ ৪৯ জন নিহত, ১১ নিখোঁজ ও শতাধিক মানুষ আহত হন। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হিসেবে তিন দফায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এরপর গত ৯ বছরে আর কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। আহত কর্মীদের সংসারও চলছে কোনো রকমে।

রানা প্লাজা ধসে নিহত সাদুল্লাপুর উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের স্মৃতি রানীর (২৫) পরিবারের সদস্যদের নিত্যসঙ্গী অভাব। পরিবারের সদস্যরা বলেন, সে সময় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে তাঁর পরিবারকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর ৯ বছর চলে গেছে, আর কোনো সহায়তা পাননি তিনি। স্মৃতির বোন মাধবী রানী বলেন, তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, নিহত পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেল, চাকরি দূরের কথা, কেউ খোঁজও নেননি।

একই ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামের দিনমজুর ওয়াহেদ আলীর ছেলে সবুজ মিয়া (১৮) ভবন ধসের ঘটনায় নিহত হন। ঘটনার ষোলো দিন পর মুঠোফোনের সূত্র ধরে ছেলের হাড়গোড় ফিরে পান বাবা-মা। সবুজ মিয়ার এক আত্মীয় তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সোরকার পোত্তেক মরা (নিহত) পরিবারোত থ্যাকি এ্যাকঝনাক করি চাকরি দিব্যার চাচিলো। আজো চাকরি দ্যায় নাই।’

এ ছাড়া রানা প্লাজার ভবন ধসে একই গ্রামের আবদুল বারীর মেয়ে বীথি খাতুন (২১) ও সোনা মিয়ার স্ত্রী কামনা খাতুন (২২) নিখোঁজ হন। আজও তাঁদের সন্ধান মেলেনি। তাঁদের আত্মীয়রা বলেন, টাকা বা সহায়তা পাওয়া তো দূরের কথা। সরকারি লোকজন তাঁদের একবার খোঁজও নেননি।

বাঁ পা হারানো সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাতগিরি গ্রামের লাভলী খাতুন (২৬) বলেন, তাঁর পা কাটা পড়েছে। ক্রাচে ভর দিয়ে চলেন। সে সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু টাকা পান তিনি। সেই টাকা দিয়ে স্বামীকে হালচাষের জন্য একটি ট্রাক্টর কিনে দেন। বাড়িতে গালামালের দোকান শুরু করেন। কিন্তু মূলধনের অভাবে দোকানটি এখন বন্ধ।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম ফয়েজ উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে হতাহত কর্মীদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন