default-image

ফরিদপুরে আহত একটি শকুন উদ্ধার হয়েছে। এলাকার তরুণদের সহায়তায় আজ বৃহস্পতিবার শকুনটিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এ কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ফরিদপুর লাইভ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপের এডমিন মো. এমদাদুল হাসান ও ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির এডমিন বায়োজিদ হোসেন। আহত শকুনটি গত বুধবার বিকেল থেকে ফরিদপুর সদরের শোভারামপুর এলাকায় অবস্থান করছিল।

এমদাদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ফরিদপুর সদরের শোভারামপুর এলাকার তরুণ পারভেজ আহমেদের মাধ্যমে আহত, অসুস্থ ও দুর্বল শকুনটির সংবাদ তিনি জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে তিনি ও বায়োজিদ দক্ষিণ শোভারামপুর এলাকায় গিয়ে আদিলের মসজিদের পাশের রেল সড়কের সামনে থেকে শকুনটিকে উদ্ধার করেন। তাঁরা বাঁশের একটি খাঁচার মধ্যে শকুনটিকে ভরে ফরিদপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। শকুনটির দুটি পাখাসহ দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১০ ফুট এবং ওজন ১৬ কেজি হবে। গায়ের রং ধূসর।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূরুল্লাহ মো. আহসান বলেন, শকুনটির মাথার নিচে ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শকুনটি খুবই অসুস্থ ছিল। তিনি বলেন, এটি দেশি জাতের একটি শকুন। খাদ্যের সংকট হওয়ায় আকাশ থেকে নেমে লোকালয়ে চলে আসায় হয়তো জনতার আক্রমণের শিকার হয়ে আহত হয়েছে। তিনি বলেন, শকুনটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এটি দুই-তিন দিন চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠবে।

default-image

ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির এডমিন বায়োজিদ হোসেন বলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শকুনটিকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় শহরতলির গঙ্গাবর্দিতে অবস্থিত ফরিদপুর বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শকুনটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, শকুনটিকে আপাতত একটি ঘরে রাখা হয়েছে। এর প্রয়োজনীয় খাদ্যের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শকুনটি মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়ার জন্য খুলনায় অবস্থিত বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী রোববার ওই কার্যালয়ের প্রতিনিধি শকুনটি নিতে ফরিদপুর আসবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন