বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একই ধরনের অভিজ্ঞতা আরেক টমেটোচাষি হারুন অর রশিদেরও। তিনি বলেন, ‘গাড়ি ভাড়াটাড়া দিয়ে আজগে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতি হবেনে।’

শুধু টমেটো নয়, রোজার খাবারতালিকার অন্যতম অনুষঙ্গ বেগুন, শসা, ধনেপাতা, কলা, পেঁয়াজসহ প্রতিটি পণ্য বিক্রিতে গতকাল পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকানের মধ্যে মূল্যে ব্যাপক ব্যবধান দেখা যায়। এদিন সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো সবজি আড়ত থেকে খুচরা দোকানগুলোতে দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বড়বাজারের আড়তগুলোতে মানভেদে পাইকারি প্রতি কেজি বেগুন ২৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি শসা পাইকারিতে ২৫ থেকে ৪০ টাকা, খুচরা ৬০ থেকে ৮০ টাকা; শজনে পাইকারি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, খুচরা ৭০ থেকে ৮০ টাকা; উচ্ছে পাইকারি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, খুচরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা; গাজর পাইকারি ১৫ থেকে ২০ টাকা, খুচরা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এভাবে প্রতিটি পণ্যেই বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। শিগগিরই দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বসে সমাধান করা হবে
শহীদুল ইসলাম, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্ত

আজাদ রহমান নামে একজন ক্রেতা বলেন, আড়তে যতই কম দামে শাকসবজি বিক্রি হোক, তাতে ভোক্তার কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আড়তগুলো থেকে এক কেজি পরিমাণ শাকসবজি কিনতে পারতাম। খুচরা দোকানিদের আপত্তির মুখে এখন তাঁরা দুই কেজির নিচে বিক্রি করছেন না। ফলে জেনেশুনেই বেশি দামে খুচরা দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে।’

বিষয়টি স্বীকার করে আড়তমালিক সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্পর্কের কারণে এক কেজি পরিমাণে শাকসবজি বিক্রি করতাম। এতে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হতেন। কিন্তু এখন একটি নির্দিষ্ট সময় পর পাইকারি বিক্রি হয় না। আবার খুচরাও বিক্রি করতে পারি না। এতে কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভোক্তারাও ঠকছেন।’

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রুনা মিয়ার দাবি, প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্য পাইকারিতে কেনা হয়, তার মধ্যে ৩০ শতাংশই অবিক্রীত থেকে যায়। আবার অনেক সময় পচে নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে ব্যবধান থেকেই যায়। তিনি বলেন, ‘আড়তগুলোতে এক কেজি, আধা কেজি পরিমাণ বিক্রি হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে বাড়িতে চলে যেতে হবে।’

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। শিগগিরই দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে বসে সমাধান করা হবে। এতে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবার দিকটি দেখা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন