ফাইজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম দলবলসহ অবস্থান নিয়েছেন। সকালে ওই কেন্দ্রে থাকা আমার এজেন্টদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন ভোটার অভিযোগ করেছেন, সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে তাঁরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। এ সময় গলায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কার্ড ঝোলানো কয়েকজন যুবক তাঁদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন। নৌকায় ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে গোপন বুথে ভোট না নিয়ে ব্যালট বাক্সের পাশে প্রকাশ্যে ভোট নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে এক ভোটার অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি কেন্দ্রের বাইরে থাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানালেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা মিথ্যা অভিযোগ। সব কেন্দ্রেই স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।’

নির্বাচনে কালাপাহাড়িয়া অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, ‘আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আমরা ওই কেন্দ্রে বিশেষ নজর রাখছি।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কালাপাহাড়িয়ার ওই বিদ্যালয়ে পুরুষ ও নারী মিলে ৪ হাজার ১৪৯ জন ভোটার আছেন।

এর আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার সাতগ্রাম ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অদুদ মাহমুদের নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম। ওই সমাবেশের একটি ভিডিও চিত্রে সাংসদকে বলতে শোনা যায়, ‘সব মেম্বারের দায়িত্ব ভোট আনবেন আর নৌকায় দেবেন। খালি বইলা দেবেন, নৌকারটা দেখাইয়া দাও, আমগরটা ভিতরে (গোপন বুথে) গিয়া দাও। তাহলে স্ট্রেইট ল্যাঙ্গুয়েজ, সব ভোটাররে বলবেন, এইটা (নৌকা প্রতীকে ভোট) এনে দিয়া যান, ওইটা (সদস্য প্রার্থীদের ভোট) ভিতরে নিয়া যান।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন