বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খালটি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাংগুনী গ্রামে পড়েছে। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘নয়াভাংগুনী খাল’ হিসেবে পরিচিত। একসময় এটি খরস্রোতা ছিল, প্রস্থে কোথাও ৪০ ফুট, কোথাও ৬০ ফুট ছিল। খালটি দখলমুক্ত করতে নয়াভাংগুনী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আমির হোসেন হাওলাদার, রতন ফরাজী, আকবর আলী, লিনা বেগমসহ খালের দুই পাড়ের ১০টি পরিবার গত ৮ জুলাই রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনওর কার্যালয় থেকে বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুদিন পরই কৃষি কর্মকর্তা খালটি পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। কিন্তু এখনো কোনো প্রতিবেদন তিনি দেননি।

ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নয়াভাংগুনী গ্রামের হারুন হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, বাচ্চু চৌকিদার, শহিদুলসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে খালটিতে বাঁধ দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বসতবাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়ে। গাছপালার গোড়ায় পানি জমে মরে যাচ্ছে। ১০ বছরের বেশি সময় ধরে খালটি প্রভাবশালীদের দখলে আছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দারছিড়ানদী থেকে খালটি উৎপন্ন হয়ে নয়াভাংগুনী বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। খালটির বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করা হয়েছে। একেকটি বাঁধ দুই থেকে তিন ফুট চওড়া। দেখলে খাল নয়, মনে হবে, পাশাপাশি অনেকগুলো পুকুর। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ দেশি প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে।

এলাকার আকবর আলী জানান, বৃষ্টি হলে পানি সরতে পারে না, জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। খেত পানিতে ডুবে গিয়ে চাষাবাদের ক্ষতি হয়। লিনা বেগম বলেন, বৃষ্টি হলেই পানি বাড়িঘরের দিকে আসে। বাড়ির উঠান ডুবে যায়।

বাঁধ দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হারুন হাওলাদার বলেন, তিনি সাবেক ইউপি সদস্য। তিনিও চান না বাঁধ দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হোক। কৃষি কর্মকর্তা তাঁদের নিয়ে খাল পরিদর্শন করেছেন। এই বাঁধগুলো অনেক আগের। খালে ৪০টির বেশি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। যাঁর যাঁর বাড়ির সামনে বাঁধ দিয়ে পুকুর করে মাছ চাষ করা হয়েছে। তবে তাঁর বাড়ির সামনে কোনো বাঁধ নেই। তাঁর ভাই বাবুল হাওলাদারের একটি বাঁধ আছে। তা–ও তিনি কেটে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জুলাই খালটি পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যাঁরা অভিযোগ দিয়েছেন এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদেরসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে তিনি পরিদর্শনের সময় নয়াভাংগুনী খালে ৪০টি স্থানে বাঁধ দেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন। বাঁধ দেওয়ার কারণে অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়িসহ আশপাশে পানি উঠে যায়। জরুরিভিত্তিতে বাঁধ অপসারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। খালের পশ্চিমে নদীর প্রান্তে একটি স্লুইসগেট নির্মাণের সুপারিশ করবেন বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। স্লুইসগেটটি হলে খালের অতিরিক্ত পানি অপসারিত হবে। খালপাড়ের অন্তত ৫০০ পরিবার উপকৃত হবে এবং প্রায় ৩ হাজার একর জমি চাষাবাদের সুবিধা পাবে। পরিদর্শনের প্রতিবেদন তিনি ইউএনওর কাছে পাঠাবেন বলে জানান।

রাঙ্গাবালীর ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কোনোভাবেই সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। অভিযোগ এসেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন