আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে ঝুঁকির মুখে শত শত স্থাপনা

বিজ্ঞাপন
default-image

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে মাদারীপুর শহর রক্ষা বাঁধের ৫৩ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। এ কারণে ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে শহরের শত শত স্থাপনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের দিন শনিবার বিকেলে শহর রক্ষা বাঁধের লঞ্চঘাট এলাকার ওয়াকওয়ের ৪০ মিটার এলাকা আড়িয়াল খাঁ নদে বিলীন হয়ে যায়। এরপরই ভাঙনের আতঙ্কে আশপাশের ১০টি পরিবার ঘরের সব আসবাব নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধের ৫৩ মিটার নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো ভাঙনের ঝুঁকির মুখে শত শত বসতবাড়ি।


সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের লঞ্চঘাট এলাকার আশপাশে বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে আড়িলাখ খাঁ নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে শহর রক্ষা বাঁধ, ওয়াকওয়ে এবং গোসলের ঘাটটি। তখন মুহূর্তের মধ্যেই পুরো মাদারীপুর শহর তলিয়ে যাবে।

ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান খান, পৌরসভার মেয়র মো. খালিদ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, চার বছর আগে লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙনে বেশ কয়েকটি স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। এরপর নদের পাড়ে ওয়াকওয়ে ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন রোধ হয়। এ বছর আড়িয়াল খাঁ নদে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

default-image

লঞ্চঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কাওসার মাহামুদ বলেন, চার বছর আগে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙনে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। এখনো অনেক পরিবার ভাঙন থেকে বাঁচতে অন্যত্র সরে গেছে। পুরো বেড়িবাঁধেই ফাটল দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বহু স্থাপনা আড়িয়াল খাঁর ভাঙনে বিলীন হবে।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে নদীর ভাঙনে শহর রক্ষা বাঁধ এবং ওয়াকওয়ে ভেঙে গেছে। আমার বাড়ির কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। সরকারের পক্ষ থেকে যেন দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সেই দাবি জানাই।’

default-image

ভাঙন রোধে শনিবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মাদারীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫৩ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আশপাশে ফাটল দেখা দিলেও ভাঙন স্থিতিশীল রয়েছে। তাৎক্ষণিক বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কারণে ভাঙন থেমেছে। আমরা আপতত শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙন এলাকায় আট হাজার জিও ব্যাগ ফেলব। ইতিমধ্যে দুই হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদের পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে আছে। পানির উচ্চতা কমে এলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ডাম্বিং কার্যক্রম করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন