বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজি কালিকাপুর ও ছোট মীরগঞ্জ এলাকার দক্ষিণ পাশে খানকায়ে সুলতানিয়া নামের একটি মসজিদ, রফিয়াদী সিংহেরকাঠী গ্রামের মণীন্দ্র বিশ্বাস, আবুল হাসান ও শহিদুল ইসলামের ঘরসহ সাতটি বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা, বেশ কিছু জমিসহ একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ আগে এলাকার একটি ইটের রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে শতাধিক বাড়িঘর।

ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো বাড়িঘরের মালামালসহ ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায়। হঠাৎ করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভাঙনের শিকার আবুল হাসান বলেন, ‘গতকাল আসরের আজানের পর আমাগো বাড়িঘর ডাইব্যা যায়। সন্ধ্যার মধ্যে সব শ্যাষ। কিছু মালামাল ও ঘরের চালা খুইল্লা রক্ষা করতে পারছি।’

কয়েক বছর ধরে অব্যাহত নদীভাঙনে এই এলাকার কয়েক শ পরিবার ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে মানুষ দিশেহারা। ভাঙন রোধে এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী চরম হতাশ।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, মীরগঞ্জ লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় লঞ্চঘাটের সড়কের সঙ্গে রাজগুরু ও নতুন চর দুই গ্রামের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় অনেক দিন আগেই। লঞ্চঘাটের সঙ্গে সংযোগ সড়কের কালভার্ট নদীভাঙনের কবলে ভেঙে পড়ায় দুই গ্রামের লোকজনকে এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে লঞ্চঘাটে আসতে হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদপাশা ইউনিয়নের ময়দানের হাটবাজারের রাস্তার মাথা থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে ময়দানের হাট ও আরজি কালিকাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় ব্যক্তিদের।

ঝুঁকিতে আছে ময়দানের হাটবাজারের প্রায় ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পানের বরজ, ফসলি জমি ও বসতভিটা। স্থানীয় ব্যক্তিরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

ছোট মীরগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলা বক্স বলেন, ‘আমার দোকানটি চারবার ভেঙেছে। এবার ভাঙনের কবলে পড়লে পথে বসতে হবে। আমরা গ্রামবাসী অস্তিত্বসংকটে পড়তে যাচ্ছি। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।’

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সূর্য আলম বলেন, ‘আমার ও বড় ভাই শাহ আলমের ঘর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ ছাড়া গত দুই দিনে এই এলাকার কয়েকটি পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে।’

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিবছরই নদীভাঙনে এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। গত বছর ছোট মীরগঞ্জ নদীতে সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে বাজারটি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পার না হতেই সেটি আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে বাজারের চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, করাতকল, মসজিদ, বসতঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

চাঁদপাশা ইউপির চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহীন হয়েছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়ন হুমকিতে পড়বে।’

জানতে চাইলে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভাঙন রোধে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৪০ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মীরগঞ্জ, বরিশাল বিমানবন্দরের উত্তর অংশ ও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ির এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষা করতে একটি বড় প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। আশা করি, আগামী এক মাসের মধ্যে সেটি মন্ত্রণালয়ে জমা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এটি অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা, সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধ হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন