বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আজগর আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘বৈমাত্রেয় ভাব দেখিয়ে আমাদের ছেলেপেলেদের পিটিয়েছে। ইনশা আল্লাহ আল্লাহপাক আপনাদের ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছে। এর হাড়ভাঙা জবাব আমি ইনশা আল্লাহ দিব। ইউএনও মহোদয় আপনি জেনে রাখবেন আপনিও নিস্তার পাবেন না নূরুল ইসলাম সুজনের রোষানল থেকে। আপনাকে খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে আমি পাঠিয়ে ছাড়ব।’

এরপর আজগর আলী আরও বলেন, ‘আপনার প্রশাসনের...(গালি) যেভাবে আজগর আলী হাজির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনকে ক্যু করার যে ষড়যন্ত্র করেছিলেন, সেই ষড়যন্ত্র আমরা আংশিকভাবে হলেও কিছুটা রক্ষা করতে পেরেছি, বাদবাকিটা পারি নাই। কিন্তু বাদবাকিটা ইনশা আল্লাহ জনগণ এবার আপনাদের হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেবে।’
আজগর আলীর বক্তব্যের সময় পাশের চেয়ারে দন্ডপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেপাল চন্দ্র রায়, ইউনিয়ন যুবগীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেনসহ দলীয় আরও অনেক নেতা-কর্মীকে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে দন্ডপালে মোট পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আজগর আলী ৪ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জামেদুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪২ ভোট।

বক্তব্যের বিষয়ে ওই সভায় উপস্থিত দন্ডপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, গত বুধবার ভোট গণনার পর ইউনিয়নের বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আজগর আলী ১৪১ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। পরে ঘোড়া প্রতীকের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামেদুল ইসলাম পুনঃগণনার দাবি করলে সেখানে ফল প্রকাশ করতে দেরি হচ্ছিল। এ সময় কেন্দ্রের ভেতর ইউএনও প্রত্যয় হাসান বিকল্প পথে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে প্রার্থী জামেদুল ইসলামও ছিলেন। ইউএনওর সঙ্গে জামেদুল ইসলামের ভালো সম্পর্ক থাকায় সেখানে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ভোটাররা বাইরে ফলাফলের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশসহ প্রশাসনের অন্য সদস্যরা ভোটার ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে অনেকেই আহত হন। পরদিন ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আজগর আলী আহতদের দেখে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ জন্যই হয়তো তিনি নিজেকে সামলাতে না পেরে এ ধরনের কথা বলেছেন।

মো. আজগর আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বক্তব্যটি আমার নয়। আমাকে প্রশাসনের রোষানলে ফেলার জন্য কিছু লোক আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে কাটপিস করে এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করছে।’ তিনি বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী জামেদুল ইসলামের সঙ্গে ইউএনও প্রত্যয় হাসানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তাঁদের একসঙ্গে ব্যবসাও রয়েছে। এ জন্য মানুষের বেশি সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল এবং আমিও আহতদের দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। তবে এমন বক্তব্য আমি দিইনি।’

এ বিষয়ে ইউএনও প্রত্যয় হাসান বলেন, বুধবার ভোট গণনার পর রাতে উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি সেখানে ছিলেন। দন্ডপাল ইউনিয়নের বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ছিলেন না। এ ছাড়া দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান জামেদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যবসাও নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন