default-image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।


আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে দিনাজপুর করোনাভাইরাস দুর্যোগকালীন সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবক টিমের ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান, নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিককর্মী বাসুদেব শীল প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ইউএনও জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাঁর ওপর যদি এ ধরনের নৃশংস হামলা চালানো হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। প্রশাসনের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে। এটি সুপরিকল্পিত। কেন এভাবে ইউএনওর ওপর হামলা চালানো হলো, তার সঠিক তদন্ত করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, এই হামলার পেছনে যারা জড়িত, তারা যতই শক্তিশালী হোক, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। মাঠপর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন ইউএনওরা। কারও স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটার ঘটনা থেকেও এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।


ইউএনওদের সঙ্গে গানম্যান রাখাসহ উপজেলা বাসভবনে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে দুর্বৃত্তরা তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে। এর আগে দুর্বৃত্তরা ওই বাসভবনের নিরাপত্তাপ্রহরীকে বেঁধে প্রহরীকক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখে। ইউএনওর বাবা ওমর আলী (৬০) প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন। কিন্তু গতকাল সকালে তিনি হাঁটতে বের না হওয়ায় সঙ্গীরা তাঁর খোঁজ নেওয়ার জন্য বাসভবনে যান। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।


পরে পুলিশ গিয়ে ইউএনও, তাঁর বাবা ও প্রহরীকে উদ্ধার করে। আহত বাবা-মেয়েকে গতকাল সকালে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়াহিদাকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। তিনি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন। ওয়াহিদার বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন