default-image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বর ‘ক্লোন’ করে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব ও ইউপি সদস্যদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এভাবে ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়ার ইউএনও সোহাগ চন্দ্র সাহা একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদুল হক ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মাসুদুল হক বলেন, মুঠোফোন নম্বর ক্লোন করে কেউ ইউপি সচিব ও সদস্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন খবর পেয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতন হওয়ার বার্তা প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ইউএনওর মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁর কাছে কল আসে। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে ইউনএও পরিচয় দিয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফরমান আলীর মুঠোফোন নম্বর চায়। ওই ইউপি সদস্য তাঁর সামনে বসে থাকায় তিনি সরাসরি ফরমান আলীকে মুঠোফোনটি দেন। পরে তিনি ইউপি সদস্য ফরমান আলীর সঙ্গে কথা বলে।

বিজ্ঞাপন

ইউপি সদস্য ফরমান আলী বলেন, সচিবের মুঠোফোনে কথা বলার সময় অপর প্রান্ত থেকে তাঁর মুঠোফোন নম্বর চায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের নম্বর দেন। এরপর ফরমানের নম্বরে কল দিয়ে ফাঁকা স্থানে যেতে বলে। ফরমান আলী বলেন, ‘আমি বাইরে গেলে তিনি আমাকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে তাঁর ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। এ সময় আমার কাছে টাকা নেই বলে জানাই। বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি ইউএনওর কার্যালয়ে যোগাযোগ করি এবং বিষয়টি ভুয়া বলে জানতে পারি।’

ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহীম খলিল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সকালে তাঁকে কল করে জানান যে ইউএনও তাঁর নম্বর নিয়েছেন এবং একটু পরে কল করবেন। এর পাঁচ মিনিট পর অন্য একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলে, ‘আমি ইউএনও বলছি, আপনি অনেক ভাল কাজ করছেন এবং আগামীতে আবারও মেম্বার হবেন।’ এরপর তিনি সমস্যার কথা বলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চান। কাছে টাকা নেই জানালে তিনি অন্য কাউকে না বলার অনুরোধ করে। পরে ইউএনও অফিসে খবর নিয়ে জানতে পারেন, এভাবে আরও অনেককে কল দিয়ে টাকা চেয়েছে একটি প্রতারক চক্র।

তেঁতুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। এটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0