বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় কনকদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নূরুল হকের কক্ষে বসেছিলেন। এ সময় দাসপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন ওই কক্ষের সামনে দিয়ে ইউএনওর কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন শাহিন হাওলাদারকে সালাম দেন জাহাঙ্গীর হোসেন। এরপর আলাপ করতে করতে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। চেঁচামেচি শুনে কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন ইউএনও। এরপর তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার বিষয়ে শাহিন হাওলাদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ইউএনও স্যারের কক্ষের পাশে একটি কক্ষে বসেছিলাম। ওই সময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এক কর্মীর সঙ্গে বলেন— “ওইদি গুণ্ডা শালায়”। এরপর আমি এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাই। তখন কথা-কাটাকাটি হয়েছে। মারামারির ঘটনা সত্য না।’ শাহিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, ওই সময়ে জাহাঙ্গীরের এক কর্মী চাকু দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন এবং জাহাঙ্গীর পিস্তল বের করলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে ইউএনও এসে শান্ত করেন।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি তাঁকে (শাহিন) উদ্দেশ্য করে কোনো কথা বলিনি। আর চাকু ও পিস্তলের রাজনীতি আমি না, শাহিন করেন।’ তিনি আরও বলেন, তাঁরা দুজনেই চেয়ারম্যান। চোখে চোখ পড়ায় তিনি সালাম দেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ইউএনও না থাকলে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত। সিসি ক্যামেরা দেখলেই বোঝা যাবে শাহিন কতটা ভয়ংকর ছিলেন।

ইউএনও মো. আল আমিন বলেন, প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি। চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে বের হয়ে দুই চেয়ারম্যানকেই দুদিকে সরিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ শিখবে। সেখানে দুই চেয়ারম্যানের এ রকম আচরণ খুবই দুঃখজনক।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসম ফিরোজ। আরেক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র মো. জিয়াউল হক। শাহিন সাংসদ পক্ষের আর জাহাঙ্গীর মেয়র পক্ষের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন