বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতবার সারুটিয়া ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের কাছে পরাজিত হন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি (সদ্য বহিষ্কৃত) জুলফিকার হায়দার। তখন থেকেই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এবার ইউপি নির্বাচনে দুজনেই দলীয় প্রতীক দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী হয়েছেন মাহমুদুল হাসান। তাঁকে সংবর্ধনা দিতে গত ৭ ডিসেম্বর প্রায় ৩০০ মোটরসাইকেলে করে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা শৈলকুপা শহরে যান। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার হায়দারের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। ওই দিনই হামলায় ছয় থেকে সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

সেখান থেকেই এবারের নির্বাচনী উত্তেজনা ছড়ায়। চলতে থাকে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা। ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, বড় মৌকুড়ি, ভাটবাড়িয়া ও কাতলাগাড়ি বাজার ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় কাতলাগাড়ি বাজারে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলায় হারান আলী বিশ্বাস নিহত হন। গতকাল শনিবার বিকেলে ছুরিকাঘাতে নৌকার সমর্থক জসিম উদ্দিন মারা যান। দুটি ঘটনায় আহত হন ১৩ জন, যাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

default-image

ভাটবাড়িয়া গ্রামের ভোটার রনি বিশ্বাস বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে জুলফিকার হায়দারের এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতা অনেক দিনের। মাহমুদুল চেয়ারম্যানের বাবা মৃত রায়হান উদ্দিন একসময় এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময় থেকে জুলফিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মাহমুদুল হাসান বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটবে, এটা হতে পারে না। প্রতিপক্ষ দুই দিনে তাঁদের দুই কর্মীকে হত্যা করেছে। এটা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চক্রান্ত।

এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার হায়দার বলেন, দুটি ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো কর্মী জড়িত ছিলেন না। কিন্তু নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়ে তাঁদের বাড়িছাড়া করা হচ্ছে। এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে।

দুজন নিহতের ঘটনায় দলীয়ভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম আবদুল হাকিম। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাঁরা দায়ী, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, সে জন্য দলের নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুটি ঘটনায় শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। দুটি ঘটনার একটিতেও এখনো মামলা হয়নি। বর্তমানে এলাকা শান্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন