পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জামালউদ্দিন জানিয়েছেন, গত ১১ নভেম্বর দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে তিনি (জামালউদ্দিন) স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি নৌকার প্রার্থী এ কে এম নাছির উদ্দিনের কাছে হেরে যান। এ ক্ষোভ থেকে তিনি নাছির উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ভোলা সদরের হেতনারহাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে জামালউদ্দিনের লোকজন স্পিডবোট নিয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তখন যাত্রীবাহী একটি ট্রলারে মদনপুর থেকে ফিরছিলেন। জামালউদ্দিন তখন অদূরে মেঘনায় আরেকটি স্পিডবোটে অপেক্ষা করছিলেন।

পুলিশ সুপার জামালউদ্দিনের বরাত দিয়ে আরও বলেন, নদীতে তীব্র ঢেউয়ের কারণে স্পিডবোট থেকে ছোড়া গুলি মদনপুরের ইউপি চেয়ারম্যানের গায়ে লাগেনি। উল্টো ট্রলারের মাঝি দ্রুতবেগে ট্রলার চালিয়ে হামলাকারীদের স্পিডবোটকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারটি নাছির মাঝি ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে আসে।

পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জামালউদ্দিন পুলিশকে বলেছেন, ট্রলার থেকে যাত্রীদের নামিয়ে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অস্ত্রধারীদের ধরতে ডুবে যাওয়া স্পিডবোটের কাছে যান। এ সময় ট্রলার লক্ষ্য করে জামালউদ্দিনের লোকজন এলোপাতাড়ি গুলি চালান। তখন খোরশেদ আলমের কপালে গুলি লাগে। এ ঘটনা দেখে জামালউদ্দিন স্পিডবোট নিয়ে পালিয়ে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জামালউদ্দিন সেসব তথ্য দিয়েছেন, তার সত্যতা যাচাই–বাছাই করা হবে। এ ছাড়া ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও তথ্য পাওয়ার জন্য তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।