default-image

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার মালিকানাধীন ৩টি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৯৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত তিনটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টা পর্যন্ত উপজেলার গোসাইবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জাল উদ্ধার করে পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা।

এই তিন কারখানা হলো সাওবান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রি, তন্ময় ফিশিং নেট ও রানা মুন্সী ফ্যাক্টরি।

আজ বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ডের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. এম আসমাদুলের নেতৃত্বে তিনটি কারেন্ট জাল তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এসব কারখানা থেকে ১ কোটি ৯৭ লাখ মিটার নতুন কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য ৫৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে।

বিপুল পরিমাণ জাল উদ্ধার করা হলেও ওই তিন প্রতিষ্ঠানের কাউকে আটক করা যায়নি। কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠান সিলগালাও করা হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, যাঁরা কারেন্ট জালের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাঁরা সবাই প্রভাবশালী। তাঁরা প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন এভাবে অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন করে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইলিয়াস সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, যেসব কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে, সেখানে কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কারেন্ট জালের পাশাপাশি বৈধ জাল উৎপাদন করা হচ্ছিল। মূলত বৈধ জালের উৎপাদন ছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল ব্যবসা। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিলগালা করা যায়নি।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল আলীম, জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইলিয়াস সিকদার। পরবর্তী সময়ে জব্দ করা জালগুলো মুক্তারপুর ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন