বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর কাছে আসা ২১টি অভিযোগের প্রতিটিতে কায়েতপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তাঁর ভাই মিজানুর রহমান ও সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বালু দিয়ে জমি ভরাটের অভিযোগ করা হয়েছে। মিজানুর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য। এ ছাড়া এসব অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আরও অন্তত ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুনানিতে অংশ নেওয়া অন্তত ১৩ জন জমির মালিক প্রথম আলোকে জানান, তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কায়েতপাড়ায় জমি ভরাট হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তাঁর দুই ভাই এই দখলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিঘা কৃষিজমি ও জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে তাঁরা উচ্চ আদালতে একাধিক রিট করেছেন।

রিটকারীদের একজন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদ আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কৃষকদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। এ জন্য ইউপি চেয়ারম্যান পুরো ইউনিয়ন দখল করে নিয়েছেন। অথচ এসব নিয়ে কোনো কথা বলা যাচ্ছে না। কথা বললেই কৃষকেরা মারধরের শিকার হচ্ছেন। এর প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার পর আদালত জমি ভরাটের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। কিন্তু দখলদারেরা সে আদেশ অমান্য করে এখনো জমি ভরাট চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে গণশুনানির স্থান ও প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কায়েতপাড়া ভূমিদস্যু প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দখলের ফলে অন্তত দেড় লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দখল হওয়া এলাকা কিংবা রূপগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ে গণশুনানি হলে আরও বেশি মানুষ শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ রাখায় কৃষকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ৪৯ জন জমির মালিক একসঙ্গে অভিযোগ দিতে এসেছি। মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়ার পর আমাদের বলা হয়েছে, কারা এসব দখলের সঙ্গে যুক্ত, তার সবই জেলা প্রশাসন জানে। আদালতে উপস্থাপনের জন্য লিখিত অভিযোগের প্রয়োজন হবে। যারা অভিযোগ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের নাম–ঠিকানা রাখা হয়েছে। দখলদারদের হাতে এসব পরিচয় গেলে তারা এই কৃষকদের নতুন করে হয়রানি করবে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তোফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমি ভরাট বন্ধে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন চেয়েছেন। তার আগে আমরা সেই এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তখন দখলদারদের ভয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। কৃষকদের নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিতেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। কৃষকেরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা আদালতের বেঁধে দেওয়া ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই সেগুলো জমা দেব।’ অভিযোগকারী প্রত্যেকের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন