বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লাইভে নাজমুল বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি রহিমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তফজ্জুল। তফজ্জুল চাননি তিনি (নাজমুল) সদস্য প্রার্থী হন। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন।

নাজমুল লাইভে এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, তিনি বেঁচে থাকলে ‘ল্যাংড়া’ হয়েও নির্বাচন করবেন। আর মরে গেলে তাঁর প্রবাসী ছোট ভাই মহসিন বা বড় ভাই শামছু মিয়া প্রার্থী হলে তাঁকে নির্বাচিত করতে। তাহলে তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

এদিকে চৈত্রঘাটের স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, ধলাই নদের বালুমহাল ও বাজারের দোকান নিয়ে এলাকাটি দুটি দলে বিভক্ত। বালুমহাল দখল নিয়ে গত দেড় মাসে রহিমপুর ইউনিয়নে দুটি পক্ষের মধ্যে তিনবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও থানায় মামলা হয়েছে। এসবের বিরোধের জেরেই হয়তো ব্যবসায়ী নেতা নাজমুল হাসানকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

গতকাল রোববার দুপুরে চৈত্রঘাটে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাইক্রোবাস নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা নাজমুলকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে মারা যান নাজমুল। নাজমুল হাসান (৩৪) উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।

রাতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মাইক্রোবাস জব্দ ও এর চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আটক মাইক্রোবাসচালকের নাম আমির হোসেন (৪০)।কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ওই চারজনকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা আজ দুপুরে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় আনা মাইক্রোবাসটি ভাড়া করা হয়েছিল। আটক চালক জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা ঘটনাস্থলে নামার পর তাঁকে পাশে কোথাও থেকে চা খেতে বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি দেখেন, মাইক্রোবাসের যাত্রীরা একজনকে কোপাচ্ছেন। এরপর তিনি খালি মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।

সোহেল রানা আরও বলেন, চৈত্রঘাট বাজারটি সিসিটিভির আওতাভুক্ত। তাই তদন্তের জন্য ফুটেজ দেখা হবে। আর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন