default-image

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে সম্প্রতি হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে নাগরিক প্রতিনিধিদল। আজ শনিবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ওই পুঞ্জি পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ দাবি জানান।
কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত ইছাছড়াপুঞ্জির বাসিন্দারা বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচী ব্যবস্থাপক এভিলিনা চাকমার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যায়।
উপজেলা প্রশাসন ও পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইছাছড়াপুঞ্জিতে ৫২টি খাসিয়া পরিবার থাকে। সেখানকার বাসিন্দা জেসপার আমলেংরংয়ের প্রায় পাঁচ একর জায়গায় একটি পানের জুম রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে টাট্রিউলি গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুমটি দখল করে নেন। এ ব্যাপারে জেসপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ নভেম্বর ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল জুমে গিয়ে অভিযান শুরু করে। এ সময় জুমে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি কাঁচা ও টিনশেডের একটি আধা পাকা ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই জমি জেসপারকে বুঝিয়ে দেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যায় রফিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুঞ্জির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে একটি মুদিদোকান ও পুঞ্জির গির্জায় ঢুকে ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় পুঞ্জির লোকজন বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় রফিক মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী, হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল সোহেল, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ স ম সালেহ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক রিপন বানাই প্রমুখ। এ ছাড়া আদিবাসী পরিবেশ আন্দোলনের সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক জোসেফ গোমেজ এবং কুলাউড়ায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের লোকজনের সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি সংস্থা এএলআরডির প্রতিনিধি এ কে এম বুলবুল আহমেদ বলেন, হামলা-ভাঙচুরের পর থেকে পুঞ্জির লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। খাসিয়াদের নিরাপদ জীবন নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। আইএলও কনভেশনে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্যগত ভূমির অধিকারের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর ভূমির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো সেটা বাস্তবায়িত হয়নি।
কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে মৌলভীবাজারের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরও তিন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে প্রধান আসামি পলাতক। তাঁকেসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0