বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত ব্যক্তিরা সবাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের অনুসারী। হামলার কারণে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষের অনেকেই পশুর হাটের ইজারার দরপত্র জমা দিতে পারেননি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের ২১টি কোরবানির পশুর হাটের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল আজ বৃহস্পতিবার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স বসানো হয়। সেখানে যাতে প্রতিপক্ষের কেউ গিয়ে দরপত্র জমা দিতে না পারেন, সে জন্য সকাল থেকেই কার্যালয়ের ফটকে এবং আশপাশ এলাকায় পাহারা দিতে শুরু করেন কাদের মির্জার অনুসারীরা।

সূত্র জানায়, কাদের মির্জার অনুসারীদের বাধা ডিঙিয়ে দরপত্র জমা দিতে গিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের নিচতলায় হামলার শিকার হন রামপুরের মো. মিলন ও চর এলাহীর মো. লিটন। এরপর পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকায় হামলার শিকার হন মো. মিলন ও শাহদাত হোসেনসহ আরও তিনজন। খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ ও ভাগনে মাহবুবুর রশিদ অভিযোগ করেন, দরপত্র জমা দানে বাধা দিতে কাদের মির্জার লেলিয়ে দেওয়া লোকজন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান নেন। দুপুর পর্যন্ত তাঁদের কমপক্ষে পাঁচজন অনুসারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় একজনের কাছ থেকে দরপত্রের কাগজপত্র, পে-অর্ডার, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মাহবুবুর রশিদের অভিযোগ, কাদের মির্জার অনুসারীরা পুলিশের সামনে তাঁদের অনুসারীদের মারধর করলেও পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

দরপত্র জমাদানে বাধা দিতে অনুসারীদের ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে ল্যান্ডফোন থেকে কল করা হলে এক ব্যক্তি ধরেন। তিনি প্রথম আলোর পরিচয় পাওয়ার পর ফোনটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইউএনওর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুপ্রভাত চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কার্যালয়ে দরপত্র জমাদানে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। সকাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। দরপত্রের শিডিউল গ্রহীতারা নির্বিঘ্নে দরপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কার্যালয়ের নিচে এক পক্ষ না চিনে নিজেরাই নিজেদের লোকজনের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে দরপত্র জমাদান নিয়ে কী হয়েছে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, নানা রকম তথ্য পাচ্ছেন। পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মারামারি লেগেছে বলে শুনেছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানীগঞ্জে পশুর হাট ইজারা নিয়ে উপজেলা করিডরে কিছু হয়নি। বাইরে হতে পারে। তাঁর কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখায় দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন