default-image

কিশোরগঞ্জের ইটনায় সাবিনা আক্তার (১৮) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের পাগলশী বন্দেরবাড়ি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে সাবিনাকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

নিহত সাবিনা আক্তার পাগলশী বন্দেরবাড়ির সোহেল মিয়ার স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী পাগলশী গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত সাবিনার স্বামী সোহেল মিয়া (২১) ও শাশুড়ি ফুলবানুকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সাত মাস আগে পাগলশী বন্দের বাড়ির আলাল মিয়ার ছেলে সোহেলের সঙ্গে সাবিনার বিয়ে হয়। অভাব-অনটনের সংসারে বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সাবিনার কলহ চলে আসছিল। যে কারণে প্রায়ই সাবিনা বাবার বাড়ি চলে যেতেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, সাবিনা বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর স্বামী সোহেল জানিয়েছেন। সোহেলের দাবি, মধ্য রাতের দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্ত্রী সাবিনাকে ফাঁস থেকে নামিয়ে স্থানীয় জয়সিদ্ধি বাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে সাবিনার পরিবারের লোকজন বিষয়টি মানছেন না। তাঁরা দাবি করছেন, সাবিনাকে শ্বাস রোধ করে মেরে তারপর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান বলেন, ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহাল থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটা হত্যা। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও ময়নাতদন্তের পরে আসল ঘটনা জানা যাবে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন