সরেজমিনে পাথরঘাটা এলাকায় দেখা যায়, নদের দুই পাড়ের সঙ্গে যুক্ত আড়াআড়ি বাঁধটি। এর উপরিভাগ প্রায় ১৫ ফুট প্রশস্ত। পানি চলাচলের জন্য পাঁচটি পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। স্রোত না থাকলেও পানির প্রবাহ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে বাঁধের খুব কাছে দুই পাশে শুকিয়ে যাচ্ছে। বাঁধ ঘেঁষে নদের পশ্চিম পাড় থেকে মাটি কাটা হয়েছে।

এ সময় কথা হয় জয়নাল আবেদীন নামের একজনের সঙ্গে। তিনি ইজারাদারের পক্ষে টাকা তোলার কাজ করেন। পার্শ্ববর্তী সিঙ্গারডাক গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি জানান, তাঁদের দেওয়া সাঁকো সরিয়ে মাটি ও ইটের টুকরা ফেলে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা ওই বাঁধ দিয়ে মাটি আনা-নেওয়া করা হয়। মাটিগুলো স্থানীয় ইটভাটায় নেওয়া হয়। বাঁধের ওপর দিয়ে শুধু মাটিবাহী ট্রাক নয়, অন্যান্য যানবাহনও চলছে।

নদের পাশেই আইবিএল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ইটভাটার অবস্থান। ওই ইটভাটার মালিক মো. ইব্রাহিম খান বলেন, অন্যান্য বছর নদে তিনিসহ ইটভাটার ব্যবসায়ীরা মিলে বাঁধ দিতেন। তবে এবার তিনি তা দেননি। ব্যবসায়ীরা তাঁকে ট্রাকে মাটি সরবরাহ করছেন।

সিঙ্গারডাক গ্রামের মনির হোসেন বলেন, বাঁধের দুই পাশে জেলেসহ স্থানীয় লোকজন মাছ ধরার জন্য গাছের ডাল ফেলে রেখেছেন। এর উত্তর পাশে নদে কমপক্ষে ৫০ হাত পানি রয়েছে। দক্ষিণ পাশেও পানি আছে। তবে বাঁধের কারণে মাছের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকার মাটি ব্যবসায়ী মইজ উদ্দিন ওরফে মজু নদে বাঁধ দিয়েছেন।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে মইজ উদ্দিন বাঁধ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নদের পূর্ব পারে ইটভাটা রয়েছে। ওই সব ভাটায় থেকে ইট নিতে চাইলে অনেক রাস্তা ঘুরে পশ্চিম পারে যেতে হয়। এতে এক পাশ থেকে অন্য পাশে ট্রাক নিতে হলে চার হাজার টাকা ভাড়া লাগে। আর বাঁধের ওপর দিয়ে ট্রাক গেলে ভাড়া লাগে মাত্র এক হাজার টাকা। ওই বাঁধের কারণে এলাকার মানুষের সুবিধা হয়েছে। প্রশাসনের লোকজনও বিষয়টি জানে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নদের ওপর বাঁধ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জরুরি ভিত্তিতে ওই বাঁধ অপসারণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন