চুইঝাল এক প্রকার মসলা। এই গাছের তিনটি অংশই মসলা হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। গাছের মোথার অংশটি সবচেয়ে মূল্যবান, এরপর কাণ্ডের অংশ, এরপর ডালের অংশ। এমন ধারণা দিলেন ফকিরহাট বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা পাইকপাড়া গ্রামের সলেমান শেখ। তিনি মোথার অংশটি প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কাণ্ডের অংশটি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আর ডালের অংশটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

মোথার অংশটির দাম এত বেশি কেন, জানতে চাইলে সলেমান ক্রেতা সামলাতে সামলাতে বললেন, ‘ইডা মুহি দিলি মোটে গইলে যায় (এটা মুখে দিলে গলে যায়)। ডালের অংশটির দাম একটু কম, কারণ ‘ইডা এট্টু ঝাল ঝাল।’ কথা বলার ফাঁকে সলেমান কয়েকজনের বাজারের ব্যাগে চুইঝাল তুলে দিলেন।

default-image

ফকিরহাট বাজার এই অঞ্চলের একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী বাজার। এখানে চুইঝাল বিক্রির জন্য আলাদা কর্নার রয়েছে। রবি ও বুধবার এই বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে। তবে চুইঝাল পাওয়া যায় সারা সপ্তাহেই। চাষিরা সকালে ভ্যানে অথবা সাইকেলে করে চুইঝাল বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে আসেন। অনেক সময় ফড়িয়ারা চাষিদের কাছ থেকে কিনে এনে বাজারে বিক্রি করেন। তবে জাত ও মানভেদে চুইঝালের দামের পার্থক্য লক্ষ করা গেল।

জাত ও মানের পার্থক্য কেন হয়, জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, উঁচু মাটিতে হওয়া চুইয়ের মান ভালো হয়। গাছের গোড়া পরিষ্কার করে চারদিকে ফসফেট সার দিলে গাছ দ্রুত বাড়ে। বৃষ্টির পানি জমলে গাছের গোড়া পচে যায়।

তবে সাধারণত চুইঝাল এক কেজি কেনা হয় না। বড় আয়োজন না হলে ক্রেতারা ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম করে কেনেন। কেনার পর বাড়িতে এনে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করতে হয়। এরপর মাংস আধা সেদ্ধ হওয়ার পর কড়াইতে দিতে হয়।

কোরবানির আগের দিন বলে আজ বাজারে চুইঝালের দাম বেশি। মূলঘর গ্রামের আরিফুল হাসান চার দিন আগে যে চুইঝাল প্রতি ১০০ গ্রাম ৮০ টাকায় কিনেছেন, আজ তা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন। আশপাশের অন্য বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে চুইঝালের এ রকম দামের কথা জানা গেল।

চুইঝালের উপকারিতা অনেক। পুষ্টিবিদদের মতে, এটা হজমে সহায়তা করে, ঠান্ডাজনিত সমস্যা ভালো হয়। তবে খুলনা-বাগেরহাটের মানুষের চুইঝালপ্রীতি ঐতিহ্যের কারণেই। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী হাসান জাকিরের মতে, চুইঝাল না হলে এ অঞ্চলের মানুষের মাংস রান্নার ষোলোকলা পূর্ণ হয় না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন