ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৪৬ হাজার ১৮২ জন অতিদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার মধ্যে গাইবান্ধা, কুলকান্দি, চিনাডুলী, সাপধরী, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের ২২ হাজার ৩৫৯ দুস্থ পরিবারের মধ্যে এখনো চাল বিতরণ করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাপধরী ইউনিয়নের একজন দুস্থ জানিয়েছেন, তাঁরা যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ খুবই দরিদ্র। পবিত্র রমজান মাস চলছে। অনেকের আয়-রোজগার নেই। ঈদের আগে প্রতিবছর ১০ কেজি করে চাল পান তাঁরা। কয়েকবার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও চাল পাননি। চেয়ারম্যান নাকি অন্য কাজে ব্যস্ত আছেন। পরে তাঁদের চাল দেবেন। তাঁর মতো অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদ, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বাড়িতে ঘুরেও চাল পাচ্ছেন না।

চিনাডুলী ইউনিয়নের গুঠাইল এলাকার দুস্থ এক নারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর স্বামী কৃষিকাজ করেন। কোনো রকমে সংসার চলে। সামনে ঈদ। অনেক ইউনিয়নে ইতিমধ্যে চাল বিতরণ শেষ। দুই দিন থেকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঘুরছেন। কিন্তু চাল পাচ্ছেন না। শুনেছেন, এখনো গুদাম থেকে চালই আনেনি। গরিব মানুষের কষ্ট কেউ বুঝে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর পুরো ইউনিয়ন বন্যাকবলিত থাকে। বেশির ভাগ পরিবার খুবই গরিব। ইউনিয়নে গত বছর ৫ হাজার ৪৯৯ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তখনই অনেক পরিবারকে চাল দিতে পারিনি। এবার মাত্র ৩ হাজার ৭৭৮টি পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এত অল্প পরিমাণ চাল বিতরণ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। গতবার যাঁরা পেয়েছিলেন, এবার তাঁদের কীভাবে দেব? তাই এখনো চাল উত্তোলন করেননি।

এ বিষয়ে সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুরুজ মণ্ডলের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মঙ্গলবার থেকে চাল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৮ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই চাল বিতরণ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো ওই ছয়টি ইউপি দুস্থ মানুষের তালিকা জমা দেয়নি। তালিকা দেওয়ার পর গুদাম থেকে চাল দেওয়া যাবে। তালিকা ছাড়া চাল উত্তোলনের সুযোগ নেই। তারা নাকি এখনো তালিকাই তৈরি করতে পারেনি। ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, স্বচ্ছ তালিকা তৈরির জন্য একটু দেরি হচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যে ওই ইউনিয়নগুলোয় চাল বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন