default-image

মারুফ সিকদার (২০) নামের এক তরুণকে আটক করে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো ও নির্যাতনের অভিযোগে মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের পরিদর্শক আবদুল মালেক তালুকদারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বারের নির্দেশে তাঁকে প্রত্যাহার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি মারুফকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল মালেক তাঁর অফিসকক্ষে হাতকড়া পরা এক তরুণের হাতে পাঁচটি ইয়াবা দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এরপর ওই তরুণ মাদক রাখার কথা অস্বীকার করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানান। এ সময় খালেক তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। ওই তরুণ পানি চাইলে তাঁকে পানি না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায় ওই ভিডিওতে। তবে ভিডিওটি কে বা কারা ধারণ করেছেন, সে সম্পর্কে জানা যায়নি।

নির্যাতনের শিকার মারুফের পরিবার জানায়, ঘটনাটি গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বরের।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী মারুফ সিকদার বরিশাল নগরের কাউনিয়া বিসিক রোডের বাদশা মিয়া সিকদারের ছেলে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে পরিদর্শক মালেকের নেতৃত্বে মারুফকে নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোড থেকে আটক করা হয়। পরে মারুফের কাছ থেকে পাঁচটি ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে ওই রাতেই কাউনিয়া থানায় মামলা করেন পরিদর্শক আবদুল মালেক।

মারুফের স্বজনদের ভাষ্য, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় মারুফকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। মারুফের পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মারুফকে কাউনিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। ওই মামলায় ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন মারুফ। পরে জামিনে মুক্ত হলেও হয়রানির আশঙ্কায় নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখেন মারুফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগের বিষয়ে পরিদর্শক আবদুল মালেকের ভাষ্য, মারুফ সিকদার কাউনিয়া এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। তাঁকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য নয়। তাঁর শরীর তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে মাদক কেনাবেচায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন