এমন অবস্থায় আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়লে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ বলছেন, ঈদযাত্রার কথা মাথায় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ। ঈদের আগে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

default-image

গতকাল রোববার সকালে দেখা যায়, কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কটি কোথাও তিন লেন, কোথাও দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এতে ওই পথে যানবাহন খুবই ধীরগতিতে চলছে। তৈরি হচ্ছে যানজট। বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলতে দেখা যায় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায়। সেখানে যানবাহনের বেশ জটলা লেগে আছে।

ভোগড়া বাইপাস মোড়ে সড়কের দুই পাশ দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চললেও গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে তৈরি হচ্ছিল যানজট। গাছা, মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, কুনিয়া বড়বাড়ি এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের স্টেশন তৈরির কাজ চলমান। সেখানে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। গাজীপুরা এলাকায় সড়কের মধ্যে উড়ালসড়ক তৈরির ব্লক রেখে দেওয়ায় সংকুচিত সড়ক দিয়ে থেকে থেমে যানবাহন চলছে।

গাজীপুরা অতিক্রম করে চেরাগ আলী আফতাব সিএনজি স্টেশন ও ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনের এলাকায় গেলে দেখা যায়, যানবাহন চলছে থেমে থেমে। টঙ্গীর মিলগেট এলাকা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং হয়নি। সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। যানবাহন চলছে হেলেদুলে।

গাজীপুর পরিবহন শ্রমিকনেতা সুলতান সরকার বলেন, চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস সড়ক ঢাকার অত্যন্ত ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে অনেকগুলো জেলার লোকজন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বড় একটি সমস্যা হলো সড়কে পানি জমে থাকা। সামান্য বৃষ্টি হলেই টঙ্গী থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত সড়কে পানি জমে যায়। সুলতান সরকার বলেন, গত দুই বছরের চেয়ে এবারের ঈদে কয়েক গুণ বেশি মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবেন। তাই এবার যানবাহনের ব্যাপক চাপ তৈরি হবে মহাসড়কটিতে।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের মতো যানবাহন চলাচল করে। আর ঈদের আগে এ সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ঈদ উপলক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত ১০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হবে। যাঁরা পালা করে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন