বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডার মোড়, হাটিকুমরুল গোলচত্বর, সয়দাবাদ গোলচত্বর ও নলকা সেতু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, থেমে থেমে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। উন্নয়নকাজ চলায় হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোলচত্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না যানবাহন। অপর দিকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার লেনের কাজ চলার পাশাপাশি সয়দাবাদে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও কড্ডার মোড় এলাকায় একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে যানবাহনের গতি কমাতে হয়। এ ছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ নলকা সেতুর কিছুটা সংস্কার করা হলেও এখনো ভোগান্তি কমেনি উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের। সেতুটির পাশেই আরেকটি সেতুর নির্মাণকাজ চলায় স্থায়ীভাবে এর সংস্কার করা হচ্ছে না।

ঢাকা থেকে বগুড়াগামী ট্রাকচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা এই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক নিয়ে অনেক চিন্তিত থাকি। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত কিছুটা যানজট থাকলেও ভালোভাবেই এসেছি। কিন্তু সেতু পার হওয়ার পর থেকেই থেমে থেমে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। যে কারণে মাঝেমধ্যে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কটিতে দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় এমনটি হচ্ছে। সামনে ঈদ। এ সময় এই মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে বলে শঙ্কায় আছি।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া তিনটি রুটের গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে প্রবেশ করে। এ কারণে মহাসড়কটিতে সব সময় চাপ থাকে। নলকা সেতু ও হাটিকুমরুল গোলচত্বরের পূর্ব পাশের ছোট সেতুটি মহাসড়কের তুলনায় বেশি সরু হওয়ায় গাড়ির গতি কমাতে হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কে কাজ চলায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদে মহাসড়ক জটমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে এই মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করতে ২৫০ পুলিশ সদস্য চেয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

সওজের সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম বলেন, ঈদের আগেই দ্রুত নলকা সেতুর কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সড়কের অসমতল জায়গা ইট, পাথর ও বিটুমিন দিয়ে সমতল করে দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার ৬৫ কিলোমিটার অংশের কয়েকটি স্থানে দিনে-রাতে যানজট লেগে থাকে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, চান্দাইকোনা-সিরাজগঞ্জ বাজার এবং চান্দাইকোনা বগুড়া বাজারের মাঝামাঝি স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য একমুখী যানবাহন চলাচল করছে। এতে সিরাজগঞ্জ বাজার ও বগুড়া বাজারে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কালভার্ট নির্মাণের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে শেরপুরের মির্জাপুর এলাকার কৃষ্ণপুর নামক স্থানে। দিনে–রাতে থেমে থেমে যানজট তৈরি হচ্ছে শেরপুর বাজার, গাড়িদহ, নয়মাইল, মাঝিড়া-ফটকি ব্রিজ ও বনানী বাজারে।

গতকাল সকাল নয়টার দিকে যানজট ছিল বগুড়ার চারমাথা এলাকায়। রংপুর থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক খোকন মির্জা বলেন, চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকে ঢাকা-রংপুর যাত্রাপথে ‘বিষফোঁড়া’ বগুড়ার চারমাথা। স্বাভাবিক সময়ে বগুড়া থেকে ঢাকার কল্যাণপুর পর্যন্ত যেতে সময় লাগত পাঁচ ঘণ্টা। চার লেনের কাজ চলায় এখন সময় লাগছে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, করোনার কারণে গত বছর ঈদে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে গড়ে ৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে। এবার এ সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ হাইওয়ে পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে সওজের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হবে।

সাউথ এশিয়ান সাব-রিজওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২–এর পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিরসনে এলেঙ্গাতে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাচলকারী যানবাহনকে ভূঞাপুর হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাটিকুমরুল মোড়ে যানজট নিরসনে লেন কিছুটা প্রশস্ত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন