সভায় বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন হায়দার  সভাপতিত্ব করেন। সভায় তিনি বলেন, বরিশাল নদীবন্দরে যাত্রীদের পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আছে। ঈদে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে জেল–জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিসি আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌ–দুর্ঘটনা এড়ানোসহ লঞ্চ ঘাটে যেকোনো ধরনের অরাজকতা দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত কাজ করবেন। ঈদ সামনে রেখে লঞ্চের টিকিটের কালোবাজারি রুখতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদ উপলক্ষে নৌপথে লঞ্চ চলাচলে নিরাপত্তা ও  ব্যবস্থাপনাবিষয়ক এ সভায় বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এবং বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন ও নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, করোনার প্রকোপ কমে আসায় এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামবে।  এ জন্য ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নৌ চলাচলকে নিরাপদ করার জন্য সভায় ঈদের আগের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন মিলিয়ে ১০ দিন ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌপথের কোথাও জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরতে পারবেন না—এমন  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং নৌ পুলিশকে  দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, ঈদের আগে ও পরের ১০ দিন প্রতিটি নৌযান ছাড়ার আগে বন্দর সমন্বয় কমিটি ওই লঞ্চগুলোর রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য কাগজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে নৌবন্দরে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল নিয়োজিত থাকবে নদীবন্দরে এবং বন্দরের পন্টুনে যাতে কোনো যাত্রী অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি এবং পকেটমারের খপ্পরে না পড়েন সে বিষয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় যাত্রীদের চাপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়  ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকদের প্রতি ২৭ এপ্রিল থেকে বিশেষ সার্ভিস চালুর আহ্বান জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে  সুন্দরবন নেভিগেশনের অন্যতম পরিচালক ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার (জাপ) কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে  বলেন, বিশেষ সার্ভিস শুরু হয় মূলত পোশাক কারখানা ছুটির ওপর ভিত্তি করে। সেক্ষেত্রে ২৮ এপ্রিল থেকে এই সার্ভিস শুরু করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে।  

বিশেষ সার্ভিস শুরু হলে ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে রাত দুইটার মধ্যে বরিশাল নৌবন্দরে পৌছায়। গভীর রাতে আসা যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বন্দরে অবস্থান করতে পারেন সে জন্য অতিরিক্ত যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা থাকবে।
মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা

সভায় উপস্থিত  বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সন্ধ্যায়  বলেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সে জন্য বরিশাল নৌবন্দরের গ্যাংওয়েগুলো মেরামত করা হচ্ছে। টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ সার্ভিস শুরু হলে ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে রাত দুইটার মধ্যে বরিশাল নৌবন্দরে পৌছায়। গভীর রাতে আসা যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বন্দরে অবস্থান করতে পারেন সে জন্য অতিরিক্ত যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসন, নগর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের প্রতিনিধি নিয়ে যাত্রী নিরাপত্তায় গঠন করা হবে ‘বন্দর সমন্বয় কমিটি’।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন