বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত কয়েক বছর থেকে রাজশাহীতে কিশোর বয়সী ছেলেদের মধ্যে ঈদের পরের দিনে ট্রাক-ভটভটির মতো খোলা যানবাহনে ভ্রমণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগে তারা দল বেঁধে ছোট ছোট যানবাহন ভাড়া করে সারা দিন ঘুরে বেড়াত। এবার তাদের বহরে ট্রাক যুক্ত হয়েছে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকায় গতকাল বিকেলে দুটি মিনি ট্রাকে এ রকম দুটি কিশোর বয়সী ছেলেদের দল দেখা গেল। তারা ট্রাক থামিয়ে টাকার হিসাবনিকাশ নিয়ে কথা বলছিল। এই সুযোগে একটি ট্রাকের কিশোরযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়। মুখোশ পরা অবস্থায় যে ছিল, তাকে যুবক যুবক লাগছিল। মুখোশ খোলার পরে বেরিয়ে পড়ল তার কচি মুখখানা। এত দূরে আসার ট্রাকভাড়া এই বয়সী ছেলেরা কীভাবে জোগাড় করেছে, জানতে চাইলে ট্রাকের চালক সুমন আলী বললেন, সবই তাঁর এলাকার ছেলে। ঈদের পরের দিন ঘুরতে চায়। তাই তিনি শুধু তেল খরচ নিয়ে তাদের বেড়াতে নিয়ে এসেছেন। কত তেল খরচ জানতে চাইলে সুমন বললেন, চার হাজার টাকা। বন্ধুরা সবাই মিলে ঈদের সালামির টাকা দিয়ে এই ট্রাকের ভাড়া জোগাড় করেছে।

গত কয়েক বছর থেকে রাজশাহীতে কিশোর বয়সী ছেলেদের মধ্যে ঈদের পরের দিনে ট্রাক-ভটভটির মতো খোলা যানবাহনে ভ্রমণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাঘা উপজেলা সদরের রৌশন আরা হোটেলের ভেতরে গতকাল দুপুরে দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়। একটি টেবিল খালি নেই। হোটেলের ব্যবস্থাপকের টেবিলেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সব টেবিলে শিশু-কিশোরদের দল। এক দল খেয়ে বিল পরিশোধ করছে। আরেক দল বসার জায়গা না পেয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। কথা বলে জানা গেল, তারাও রাজশাহী শহর থেকে মিনি ট্রাক ভাড়া করে ঈদের খুশিতে ঘুরতে বের হয়েছে।

default-image

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর আড়ানীতে বড়াল নদের ওপরের সেতু থেকে বাজারের শেষ মাথা পর্যন্ত আড়ানী-বাঘা সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদের পরের দিন সড়কে কোনো মালবাহী গাড়ি ছিল না। এই গাড়িগুলো সবই ছিল শিশু-কিশোরদের ঈদের ঘোরাঘুরির গাড়ি। এর মধ্যে বেশির ভাগ ছিল ভটভটি।

বাঘা উপজেলার আমোদপুর এলাকায় ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাসসহ বড় একটি গাড়ির বহর দেখা যায়। সব কটি গাড়িই দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। এ জন্য তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রতিটি গাড়িতেই দু-চারজনের হাতে ছিল বিকট শব্দ করা ভুভুজেলা বাঁশি। এই সড়কে এই কিশোরদের গাড়ির দাপট দেখে পথচারীরা অনেকেই হাঁ করে তাকিয়ে ছিলেন।

এর আগে পয়লা বৈশাখেও খোলা ট্রাক-ভটভটিতে করে মাথায় লাল গামছা বেঁধে কিশোর-তরুণদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। দুই বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে এ রকমটি দেখা যায়নি। এবার তারা বড় যানবাহন ভাড়া করে ঈদের পরের দিন এ রকম ঘোরাঘুরিতে মেতে উঠেছে। অপেক্ষাকৃত অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে হর্ন বাজিয়ে সড়কে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মোটরসাইকেলের এ রকম বহরে চার-পাঁচটি থেকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল দেখা গেছে। তারা অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ঈদের খুশিতে সড়কের দুরন্তপনায় মেতে উঠেছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁদেরও নজরে এসেছে। শিশু-কিশোর বয়সী ছেলেরা যেভাবে গাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রমণ করছে, তাতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, এ রকম গাড়ি দেখলেই যেন পুলিশ থামিয়ে দেয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন