বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন বিকেল থেকেই পর্যটকেরা আসতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ। তিনি বলেন, ‘রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। এবার ঈদের ছুটি রয়েছে বেশি। সে ক্ষেত্রে আমরা ধারণা করছি, পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। তবে মাত্রাতিরিক্ত গরম পড়লে পর্যটক কম হবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে পর্যটকের সংখ্যা বেশি হবে।’

default-image

মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার হোটেল-মোটেলগুলোয় ১০ থেকে ১৫ হাজার অতিথি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ পাশের এলাকার পর্যটকেরাও ঈদের ছুটিতে ব্যাপক সংখ্যায় আসবেন। সব মিলিয়ে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে কুয়াকাটায়।

আজ সোমবার সরেজমিনে কুয়াকাটায় দেখা যায়, সৈকতজুড়ে সুনসান নীরবতা। সৈকতপাড়ের ছোট দোকানিরা তাঁদের চা-পানের দোকান গোছগাছ করছেন। সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের ফিশ ফ্রাইয়ের বাজার দুটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। এ ছাড়া ডাব বিক্রেতা, মোটরসাইকেলচালক, ভ্যানচালক এবং সাগরে ঘুরে বেড়াতে যেসব ট্রলার-ফাইবার বোট রয়েছে, সেসবের মালিকেরা অধীর আগ্রহ নিয়ে পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘গত দুই বছর ছিল করোনাকাল। পর্যটনকেন্দ্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পর্যটন খাত। এ কারণে গত দুই বছরে রোজার ঈদ ও কোরবানির ঈদে কুয়াকাটায় কোনো পর্যটকের আগমন ঘটেনি। করোনাকাল কেটে যাওয়ায় এবার দেশের দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসার জন্য হোটেল-মোটেলে কক্ষ অগ্রিম বুকিং করেছেন। কেউ কেউ সেবা নিতে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। আমরাও পর্যটকদের যথাযথ সেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।’

default-image

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘সারা বছরই আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর থাকি। তবে বিশেষ দিনগুলোয় আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিই। এবারের ঈদে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের পাঁচটি নিরাপত্তা দল কাজ করবে। হোটেল-মোটেল এলাকা ও সৈকত এলাকাকে আলাদাভাবে ভাগ করে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পর্যটন পুলিশের পোশাকধারী ও সাদাপোশাকধারী দল কাজ করবে। আমরা পর্যটকদের সেবার জন্য হেল্প ডেস্ক খুলেছি।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘পর্যটকেরা যাতে ফুরফুরে মনে কুয়াকাটা সৈকত ও অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য আমরা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি। এ ছাড়া পৌরসভার তরফ থেকে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।’

default-image

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনের সুযোগ নিয়ে আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবারের হোটেল থেকে শুরু করে পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে অতিরিক্ত মূল্য না নিতে পারেন, সে জন্য আমরা মূল্যতালিকা টাঙিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক তৎপরতাও থাকবে। এ ক্ষেত্রে কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন