কলাপাড়া পৌর শহরের রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘দিনভর কলাপাড়ায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দময় সময় কাটিয়েছি। দুপুরের পর পরিবারের সবাই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কুয়াকাটায় চলে এলাম। কুয়াকাটার মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বাতাসের শব্দ এবং সাগর থেকে উঠে এসে আছড়ে পড়া ছোট ছোট ঢেউয়ের দৃশ্য আমরা দারুণভাবে উপভোগ করেছি। ঈদের দিনে কুয়াকাটার বিকেলটা সত্যিই চমৎকার ছিল।’

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটায় অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত হোটেল-মোটেল আছে ৭৪টি। এর বাইরে আছে ৫৬টি হোটেল-মোটেল। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল রয়েছে ১০-১৫টি। প্রথম শ্রেণির হোটেল-মোটেলের প্রায় শতভাগ কক্ষ বুক হয়েছে। বাকি হোটেল-মোটেলের ৬০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়েছে। সামনের কয়েকটা দিন ছুটি থাকায় এসব হোটেলের কক্ষ বুকিং আরও বাড়বে। ১৫ দিন আগে থেকেই হোটেল-মোটেলের বুকিং শুরু হয়। তবে প্রতিটি আবাসিক হোটেলেই বুধবার সকাল থেকে অতিথিরা উঠতে শুরু করবেন।

মোতালেব শরীফ আরও জানান, রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য ছিল কুয়াকাটা। যে কারণে পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছিল। ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা আসবেন, এমন আশায় বুক বেঁধে আছেন সবাই। ঈদের প্রথম দিনটায় নিকটবর্তী এলাকার মানুষজনের পদচারণে ঝিমিয়ে পড়া পর্যটনকেন্দ্র মুখর হয়েছে। বেচাবিক্রিও বেড়েছে।
কুয়াকাটার লেম্বুর চর, শুঁটকিপল্লি, জাতীয় উদ্যান, রাখাইন মহিলা মার্কেটসহ আকর্ষণীয় স্পটগুলোতে মোটামুটি ভিড় লক্ষ করা যায়। তবে শামুক-ঝিনুকের দোকান, ফুচকা-ডাব এবং চা-পানের দোকানে বেচাকেনা হয়েছে ভালো।

কুয়াকাটা সৈকতের  পূর্ব পাশের ভাজা মাছ বিক্রির দোকানি মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দূরের পর্যটকেরা বুধবার থেকে আসতে শুরু করবেন। আজকে কুয়াকাটায় এসেছেন কাছাকাছি এলাকার মানুষজন। আমি ঈদের প্রথম দিন ভালোই অর্ডার পাইছি। তবে আগন্তুকদের বেশি চাহিদা ছিল টুনা ফিশ। এরপর কেউ কেউ কাঁকড়া, লবস্টার, কোরাল মাছ ফ্রাই করে খেয়েছেন। আগামী কয়েক দিন ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘ঈদের দিন দুপুরের দিকে কিছু দর্শনার্থী কুয়াকাটায় এসেছেন। তাঁদের অনেকেই সাগরের পানিতে গোসল করেছেন। আবার কেউ কেউ ট্রলার, ফাইবার বোট, রেসিং বোটে চড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।’  

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে আমরা তৎপর রয়েছি। সৈকত এবং হোটেল-মোটেল এলাকায় আলাদা ভাগ করে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন পুলিশের পাঁচটি দল এ জন্য কাজ করছে।’  

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবার হোটেলে আমরা মূল্যতালিকা টানিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিটি সেবা খাতকেও আমরা নিয়মনীতি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছি। কেউই পর্যটকদের হয়রানি করতে পারবে না। আমাদের সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক তৎপরতা রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন