ধানগড় বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবদুল লতিফ সরকার বলেন, ধান কাটার মৌসুম শুরু হলে খুব ভোর থেকে শ্রমিক ও জোতদারদের আনাগোনায় জমজমাট হয়ে ওঠে এলাকা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আজ সকালে কথা হয় ধান কাটার শ্রমিক আছের আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ৮০০ টাকা ও দুবেলা খাবারের চুক্তিতে আজ সারা দিন ধান কেটে গৃহস্থের বাড়িতে তুলে দেবেন। গতকাল মঙ্গলবার ঈদের দিন কাজ করেননি। এর আগে ২-৩ দিন ধরে ৭০০-৮০০ টাকায় দিন হাজিরায় ধান কেটেছেন।

ফজল সেখ নামের আরেকজন বলেন, ধান কাটার মৌসুমে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। এ জন্য গৃহস্থরা মজুরি একটু বেশি হলেও দেন।

কাজ খোঁজার জন্য অল্প বয়সী কয়েকজনকেও দেখা গেল। ধান কাটার জন্য মজুরি করতে এসেছেন তাঁরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বলেন, ‘আগে স্কুল-কলেজ বাদ দিয়ে ধান কাটার মৌসুমে কাজ করেছি। এবারে ঈদের ছুটির কারণে সুবিধা হয়েছে।’ মজুরি বেশি হওয়ায় খুশি তাঁরা।

তবে মজুরি বেশি হওয়ায় গৃহস্থরা কিছুটা অখুশি। নাটোরের সিংড়া উপজেলার দুর্গাপুর থেকে ধানকাটার শ্রমিক নিতে এসেছেন ফরহাদ আলী। তিনি বলেন, শ্রমিকের মজুরি বেশি। এ দামে ধান কেটে পোষাবে না। তবু ধান তো আর মাঠে রাখা যাবে না। বাধ্য হয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আঁশগ্রামের আজাদ হোসেন বলেন, প্রত্যেক শ্রমিককে দুবেলা খাবার ও ৮০০ টাকা দিতে হবে। অথচ হাটে প্রতি মণ ধানের দাম ৮৫০-৯০০ টাকা। ধান বেচে শ্রমিকের পেছনেই সব খরচ করতে হচ্ছে।

রায়গঞ্জ পৌরসভার রণতিথা এলাকার রাশেদুল হাসান বলেন, ‘অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিতে পারলাম না। মজুরি বেশি হওয়ায় আজ ফিরে যাচ্ছি।’ একই ধরনের কথা বলেন ধানগড়া ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন ও সিংহের সিমলা গ্রামের শামীম হোসেন।