রাজবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে মানিকগঞ্জ বেড়াতে যাচ্ছেন বস্ত্র প্রকৌশলী রাকিবুল হক। গতকাল রাত ৮টার দিকে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জে নানার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। বুধবার বিয়ে। তাই ঈদের রাতেই রওনা করেছি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ঘাট থেকে একটি ছোট ফেরি ছেড়ে যায়। এরপর প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর একটি বড় ফেরি ঘাটে এসে ভেড়ে। অনেক কম ফেরি চলায় ঘাটে যানবাহন ও মানুষ অনেক হয়ে যায়।’

যশোর থেকে পটলবোঝাই ট্রাকের চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে ঈদে ব্যস্ত, তখন আমরা মানুষের জন্য সবজি বোঝাই করে ঢাকায় যাচ্ছি। ঈদের পরদিন থেকেই তো মানুষের ঘরে ঘরে সবজি লাগবে। এখন না নিলে তখন সবাই খাবে কী?’ তিনি আরও বলেন, ঘাটে গাড়ির চাপ তেমন না থাকলেও অনেকক্ষণ পরপর ফেরি আসছে। যে কারণে গাড়ির সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় জমে যাচ্ছে।

রাত ৮টার দিকে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে এসে ভেড়ে রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমীন। ফেরিটিতে চারটি বাস, দুটি ট্রাক, প্রায় ২০টির মতো ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ছিল। ছিলেন দুই শতাধিক যাত্রী।

সাভার থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক সাবিহা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘সারা দিন নিজের বাসায় ছিলাম। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী যাচ্ছি। দুই দিন থেকে আগামী শুক্রবার ঘাটে বেশি চাপ পড়ার আগেই সাভার ফিরে যাব। ঈদের দিনও ফেরিতে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। বেশির ভাগ আমার মতো বেড়াতে ছুটছেন।’

ফেরিঘাটে কর্তব্যরত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চোহান বলেন, ঈদের দিন গাড়ির চাপ না থাকায় ফেরির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫টি রো রো (বড়) এবং ৫টি ছোট ফেরি মিলে মোট ১০টি ফেরি চালানো হচ্ছে। গাড়ির চাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুসারে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। তবে ঈদের দিনও অনেকে বেড়াতে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে আসা-যাওয়া করায় মাঝেমধ্যে ঘাটে ভিড় দেখা যায়।