বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত শনিবার গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের ওঠানামার দুটি পদচারী-সেতু ভেঙে গেছে। সেতু দুটির নিচ দিয়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা চলাচল করছেন। বাঁ পাশের ওপরে ওঠার (আপ) পদচারী-সেতু মেরামত করছেন দুজন শ্রমিককে। তাঁরা বলেন, দুই দিন আগে সেতু মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। ঈদের ছুটির আগেই কাজ শেষ হবে।

লঞ্চঘাট দিয়ে নিয়মিত ঢাকায় আসা-যাওয়া করেন দূরপাল্লার পরিবহনের তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অধিকাংশ সময় লঞ্চ পারাপার যাত্রীদের নিয়ে এই ঘাট দিয়ে চলাচল করতে হয়। গত বছর বর্ষায় নদীভাঙনে পদচারী-সেতু ভেঙে পন্টুনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তখন থেকে যাত্রীরা বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘদিনেও সেতুর সংস্কার হয়নি। ঈদের সময় যাত্রীদের চাপে দুর্ভোগ অনেক বাড়বে।

ঘাটে দায়িত্বরত লঞ্চ মালিক সমিতির ঘাট প্রতিনিধি নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, বর্তমানে যাত্রীর চাপ কম। প্রতিদিন ৬-৭ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। ঈদের সময় যাত্রী বেড়ে ১৫-২০ হাজার হতে পারে। বিকল্প উপায়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ওই রাস্তা উঁচু-নিচু ও ঢালু হওয়ায় যাত্রীরা পড়ে আহত হন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পা পিছলে পড়েন। সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে কি না, সন্দেহ আছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়া-আরিচা ও আরিচা-নগরবাড়ি নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করে। অবস্থা বুঝে লঞ্চগুলো বিভিন্ন রুটে ভাগ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ১৭টি লঞ্চ চলাচল করছে। ঈদে যাত্রী বেড়ে গেলে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পথে ২০-২২টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করবে।

ইউএনও আজিজুল হক খান বলেন, উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কয়েকজন সদস্য লঞ্চঘাটের জরাজীর্ণ সেতু নিয়ে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা করেছেন। ফেরি ও লঞ্চঘাট দ্রুত সংস্কার করতে বিআইডব্লিউটিএকে অনুরোধ করা হয়েছে। ঈদের আগেই সমাধান হয়ে যাবে।

দৌলতদিয়া ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ‘লঞ্চঘাটের অবস্থা খুবই করুণ। প্রকল্পের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সুরাহা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে সংস্কারকাজ কিছুটা শুরু করেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন