জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। তবে কারাগারে মোট বন্দী আছেন ১ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২৪৬ জন ও নারী ৫৭ জন। কারাবন্দী মায়েদের সঙ্গে ছয় বছরের কম বয়সী ৭ জন শিশু আছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি আছেন ১ নারীসহ মোট ৯ জন। এই কারাগারে বন্দীরা করোনায় আক্রান্ত না হলেও ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছিলেন। যাঁরা পরবর্তী সময়ে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ঈদের দিন সকালে বন্দীদের মুড়ি, পায়েস; দুপুরে পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগির মাংস, কোমল পানীয়, মিষ্টি, পান-সুপারি এবং রাতে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্দীদের বিনোদনের জন্য কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

default-image

সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা এলাকার জলি হাসান কারাগারে তাঁর স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন। জলি হাসান প্রথম আলোকে বলেন, স্বামী কারাগারে থাকায় তাঁদের পরিবারে কারও ঈদের আনন্দ নেই। এ জন্য ঈদের পরদিন আজ স্বামীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং মামলার বিষয়ে আলাপ করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের জাহিদ হোসেন তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসেন। তিনি বলেন, মারামারির মামলায় তাঁর ভাই জেল খাটছেন। ঈদে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তাঁর খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাইরে থেকে রান্না করা খাবার দেওয়ার সুযোগ দিলে ভালো হতো বলে তিনি জানান।

সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ গত মাসে রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া থেকে সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ইতি আক্তার বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছি। দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছি। দেখা করতে পেরে তারও (স্বামী) একটু ভালো লাগল, আমাদেরও ভালো লেগেছে।’

আড়াইহাজার থেকে কারাবন্দী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মা গোল নাহার বেগম। মাদক মামলায় তাঁর ছেলের সাজা হয়েছে। ঈদে ছেলের মুখখানি দেখতে পেয়ে তাঁর খুব ভালো লাগছে। ছেলে মুক্তি পেলে আরও অনেক ভালো লাগবে বলে জানান তিনি।

default-image

নারায়ণগঞ্জ কারাগারের জেলার শাহ্ রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হকের নির্দেশনায় ঈদের পরদিন (আজ) বন্দীদের সঙ্গে স্বজনেরা সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে বন্দীরা আনন্দিত। এ ছাড়া ঈদের দিন বন্দীদের জন্য বিশেষ খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

বাইরের রান্না করা খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দীদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলেও বাইরের রান্না করা খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। রান্না করা খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য কারাগারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়, এ জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেল সুপার মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে বন্দীরা খুবই খুশি। বন্দীরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েছেন। তাঁদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। তিনি বলেন, আজ দুপুর পর্যন্ত ৬৩ জন সাক্ষাৎ করেছেন। আরও ১০০-১৫০ জন বন্দী সাক্ষাৎ করতে পারবেন। স্বজনেরা বন্দীদের সঙ্গে ১০ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন