বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্র ও শনিবার এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
দীর্ঘদিন পর বিপুলসংখ্যক পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমনে শুঁটকি ব্যবসায়ী, শামুক-ঝিনুকের দোকানদার, বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালক, অটোরিকশাচালক, সৈকতের ছাতা-বেঞ্চ ব্যবসায়ী, চা-দোকানি, চটপটি বিক্রেতা, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে।

রাখাইন মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দূরের মানুষ বেড়াতে এলে কেনে বেশি, আর কাছের মানুষ তুলনামূলক কম কেনে। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন আমার বিক্রি ভালোই হইছে। শুক্র ও শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটি। সামনের কয়টা দিনও বিক্রি ভালো হইবে।’

আজ কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যান, লেম্বুর চর, গঙ্গামতি সৈকত, শুঁটকিপল্লি, ইলিশ পার্ক, মিশ্রিপাড়া রাখাইন বৌদ্ধমন্দির ও রাখাইন মহিলা মার্কেট এলাকায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

মোটরসাইকেলচালক আবদুর রহিম বলেন, ‘ঈদের ছুটির এ সময়ে যাত্রী টেনে কুল করতে পারছি না। নাওয়া-খাওয়ারও সময় পাই না। যাত্রী টেনে গত দুই দিনে আমি আট হাজার টাকা আয় করেছি।’

কুয়াকাটার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ভাজা মাছ বিক্রির ৫০টি দোকান বেচা-বিক্রিতে ছিল সরগরম। ভাজা মাছ বিক্রির পূর্ব অংশের বাজার কমিটির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিটি ভাজা মাছের দোকানে বিকেল চারটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত বিক্রি চলে। দোকানিদের কেউ ৪০ হাজার, কেউ ৫০ হাজার টাকা দৈনিক বিক্রি করছেন। সব মিলিয়ে ৫০টি ভাজা মাছের দোকানে প্রতিদিন গড় বিক্রি হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা।

আজ কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যান, লেম্বুর চর, গঙ্গামতি সৈকত, শুঁটকিপল্লি, ইলিশ পার্ক, মিশ্রিপাড়া রাখাইন বৌদ্ধমন্দির ও রাখাইন মহিলা মার্কেট এলাকায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সৈকতে স্থাপন করা ছাতা-বেঞ্চেও বসা ছিলেন অসংখ্য দর্শনার্থী। রোদের প্রখরতা থাকলেও বাতাসের বেগ থাকায় পরিবেশ ছিল সহনীয়।

কুয়াকাটা আবার জেগে উঠুক, কুয়াকাটা স্বরূপে ফিরে যাক, আমরা সে আশাই করি।
মোতালেব শরীফ, সাধারণ সম্পাদক, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন
default-image

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘কুয়াকাটা আবার জেগে উঠুক, কুয়াকাটা স্বরূপে ফিরে যাক, আমরা সে আশাই করি।’কুয়াকাটা সৈকতের পরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্ব পর্যটকসহ সবার বলে উল্লেখ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক। তিনি বলেন, কুয়াকাটায় যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁরা অনেকেই বিস্কুট, চিপসের প্যাকেট, ডাব খেয়ে খোসা ফেলেন সৈকতে। ভ্রাম্যমাণ দোকানদারেরাও সৈকতে বিভিন্ন ময়লা ফেলেন। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে।

সৈকতের বালুচরে ছাতা-বেঞ্চে লোক বসিয়ে সংসার চালান নুর হোসেন। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ছাতা-বেঞ্চ বাড়িতে তুলে রেখেছিলাম। ঈদে আয়রোজগার ভালো হবে মনে করে ছাতা-বেঞ্চ এনে আবার সৈকতে বসিয়েছি। মানুষ ভালোই আসতেছে, আমাদের আয়ও ভালো হইতেছে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘কুয়াকাটা আবার জেগে উঠুক, কুয়াকাটা স্বরূপে ফিরে যাক, আমরা সে আশাই করি।’

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ তৎপর আছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ। তিনি বলেন, সৈকতে হোটেল-মোটেল এলাকায় আলাদা ভাগ করে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন পুলিশের ছয়টি দল এ জন্য কাজ করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন