মাছুমের স্ত্রী শাবলী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের ঈদে ছেলেদের নিয়ে একসঙ্গে বাজারে গিয়ে সবার জন্য কেনাকাটা করতে চেয়েছিলাম। ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে আমার সব আনন্দ শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। তাই সংসারে কোনো ঈদ নেই।’

মাছুমের শ্বশুর হারুন মিয়া বলেন, ‘জামাতার এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে আমার মেয়ের সংসার তছনছ হয়ে গেছে। দুই বছরের দুটি ছেলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় আমার পরিবারে এসেছে। আমাদের মনে তো ঈদের আনন্দ নেই।’

default-image

মাছুমের মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে খুন হন আরেক মাছুম মিয়া (২৭)। তিনিও জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। গত বছর ঈদুল ফিতরের আগে পৌর এলাকার ভবানীপুর গ্রামে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী সুরুজ মিয়ার সঙ্গে মাছুমের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৬ এপ্রিল খুন হন মাছুম। মাছুমকে হারিয়ে দিশেহারা তাঁর পরিবার। মাছুমের পরিবারেও ঈদ বলে কিছু নেই। এ ঘটনায় মাছুমের বোন তমা আক্তার বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দিলেও সন্তুষ্ট নয় মাছুমের পরিবার।

মাছুমের বোন তমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে আমাদের পরিবার আজ দিশেহারা। আমাদের পরিবারে ঈদ বলে কিছু নেই। মামলা চলছে।’

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই ঈদুল ফিতরের পূর্বমুহূর্তে একই এলাকার একই নামের দুই যুবক তুচ্ছ ঘটনার জেরে খুন হওয়ার ঘটনা সত্যিই বেদনাদায়ক। দুই ঘটনার দুটি মামলার একটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুটি ঘটনাই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে। ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন