সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেলা একটার দিকে রাস্তায় নামেন সমবেত নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী বাজার সড়কের রেলগেট মোড়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে রাস্তা অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে সড়কের দুই দিকে যানবাহন আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। প্রচণ্ড রোদে অনেকেই রিকশায় বসে ছটফট করতে থাকেন। খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা ঘটনাস্থল ছাড়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অবিলম্বে এই কমিটি স্থগিত করে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান পদবঞ্চিত নেতা–কর্মীরা।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগের নেতাদের শান্ত করেছেন। পরে তাঁরা চলে গেলে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নেভানো হয়েছে। এখন পরিবেশ শান্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, ছাত্রলীগের নেতা ইফতেখারুর আলম, হৃদয় হোসেন, সাফিস অরণ্য, সাফিন অরণ্য প্রমুখ।

default-image

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নবগঠিত কমিটিতে সাংগঠনিক কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। বয়সসীমা ও বৈবাহিক অবস্থা দেখা হয়নি। বিবাহিত ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিতে আগে ছাত্রদল করা ব্যক্তি ও মাদক মামলার আসামিও আছেন। তাই অবিলম্বে এই কমিটি স্থগিত করে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে ও নেতা-কর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী আংশিক এই কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা সংগঠনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। এখানে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফিরোজ আলী ও সম্পাদক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে শুধু সভাপতি ও সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলার ছাত্রলীগের কমিটিতে এক বছরের জন্য মল্লিক মিলন মাহমুদকে সভাপতি ও খন্দকার আরমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। খন্দকার আরমান ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে আবির হোসেনকে সভাপতি ও মারুফ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। মেয়াদ পার হওয়ার তিন বছর পর নতুন এই কমিটি ঘোষণা করা হলো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন