default-image

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা সদরে আজ বুধবার দিনব্যাপী ছাত্রলীগের দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সকালে প্রথম দফায় মারধরে দুজন আহত হয়েছেন। বিকেলে দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ পিস্তলসহ দুজনকে আটক করে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসানের বাবার একটি দোকানের ভাড়া তোলা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবুল হাসানকে থানায় এনেছে। এ ঘটনায় আহত দুজন হলেন রাতুল ইসলাম (২৬) ও শুভ ইসলাম (২৮)। দুজনই উপজেলা ছাত্রলীগের সমর্থক। বাড়ি উপজেলা সদরের পূর্ব টেংরি মহল্লায়।
অস্ত্রসহ আটক দুজন হলেন উপজেলা সদরের মশুড়িপাড়া মহল্লার আকমল প্রামানিক (৩৬) ও আমজাদ হোসেন (২৯)।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলাটিতে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। এক পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ। অপর পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন বর্তমান সাংসদ নূরুজ্জামান বিশ্বাসের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম। ফলে দুই পক্ষই নিজেদের শক্তিশালী ভাবছে। দুই পক্ষই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে রাকিবুল হাসানের বাবার একটি দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে মারধরের সূত্রপাত হয়।

বিজ্ঞাপন

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরের ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকে একটি চায়ের দোকানে রাতুল ও শুভ চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক এসে তাঁদের ওপর হামলা করে চাকু দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষ দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের জন্য জমায়েত হতে শুরু করে। বিকেল চারটার দিকে তারা উপজেলা সদরের বকুলের মোড় এলাকায় জমায়েত হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করলে আটক আকমল হোসেন পুলিশকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পিস্তলসহ দুজনকে আটক করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসানের বাবার একটি দোকান ভাড়া নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।’ আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্য দিকে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

এ ব্যাপারে জানতে শিরহান শরীফ ও তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ ছিল।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনা জানার পর ছাত্রলীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের জানামতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসানও ছুরিকাহত হয়েছেন। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্তে যাঁদের বিষয়ে অভিযোগ আসবে, তাঁদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন