বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ বলেন, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ডেনমার্ক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে। দুপুরে ক্যাম্প-৬-এর রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে ১০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাজকুমারী। উখিয়ার আশ্রয়শিবিরের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সোয়া আটটার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সৈকতের একটি হোটেল থেকে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হন ডেনমার্কের রাজকুমারী। সোয়া ৯টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৫ আশ্রয়শিবিরে পৌঁছালে ফুল দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত। এ সময় অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজাসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর রাজকুমারী আশ্রয়শিবিরে ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল (ডিআরসি) কর্তৃক পাহাড়ভাঙন রোধ প্রকল্প ও পরিবেশ রক্ষায় সৃজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানে বৃক্ষ রোপণ করেন তিনি। পরে ৬ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং সেখানে একটি ওয়াচ টাওয়ারে ওঠে ক্যাম্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

default-image

রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথের সফর ঘিরে ক্যাম্পে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়। আশ্রয়শিবিরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চলাচলও সীমিত করা হয়। রাজকুমারীর আসা-যাওয়ার সময় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে কয়েক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ক্যাম্প থেকে রাজকুমারী যান পার্শ্ববর্তী রাজাপালং ইউনিয়নে পাতাবাড়ি গ্রামে। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয় দিতে গিয়ে তাঁদের (বাংলাদেশিদের) চাষাবাদ বন্ধ, বনায়ন উজাড় এবং কর্মহীন হয়ে পড়ার কথা তুলে ধরেন রাজকুমারীর কাছে।

এ সময় রাজকুমারীর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রাজকুমার রোহিঙ্গা শিশু ও নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের জীবনযাপন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। আশ্রয়শিবির তৈরির সময় ধসের ঝুঁকিতে থাকা পাহাড়ে যে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, সেটিসহ পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন রাজকুমারী।

ডেনমার্কের রাজকুমারী ম্যারি এলিজাবেথ গতকাল সোমবার তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ আসেন। ওই দিন বিকেল পাঁচটায় ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজার বিমানবন্দর পৌঁছান। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। তিনি ওঠেন কলাতলী সৈকততীরের পাঁচ তারকা হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্টে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন