বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের ছোট ছোট বাস ও ট্রাকযোগে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠে আনা হয়। বেলা দুইটার দিকে ‘চল চল ভাসানচর চল’ স্টিকারযুক্ত বাসে করে দিনের প্রথম ধাপে নয়টি ও দ্বিতীয় ধাপে সাতটি বাস ছাড়া হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই তাদের চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা।

আজ সকালে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট বাস ও ট্রাকযোগে রোহিঙ্গাদের সেখানে জড়ো করা হচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা কলেজ মাঠে হাজির হয়ে যায়। স্থানান্তর নিবন্ধন কার্যক্রম শেষে তাদের দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। বেলা দুইটার দিকে রোহিঙ্গাদের গাড়িতে ওঠানো হয়।

default-image

স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাচ্ছেন রোহিঙ্গা সলিম উল্লাহ। তিনি বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আরও ছয়জনকে হত্যা করেছে। এখনো প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ চলছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের বসবাস দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে ভাসানচর আশ্রয়শিবির অনেক নিরাপদ। সেখানে বসবাসের ঘরগুলোও উন্নত। নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো।

কুতুপালং ক্যাম্পের সাজেদা বেগম (৩৪) বলেন, গত বছর তাঁর কয়েকজন আত্মীয় ভাসানচরে চলে গেছেন। তাঁরা সেখানে নিরাপদে আছেন। সেখানকার সুযোগ-সুবিধাও অনেক। তাই তিনি স্বামী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ভাসানচরে যাচ্ছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই জায়গায় ১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ৮ দফায় মোট ১৯ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচর আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

আরআরআরসি কার্যালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরের চাপ কমাতে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন