default-image

ভরা বর্ষায় কিছুদিন পানিতে তলিয়ে যায়। আর বছরের বাকি সময় জায়গাটি বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করেন বিভিন্ন পরিবহনের মালিকেরা। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে গড়ে ওঠা এই বাস টার্মিনালটি অবৈধ হওয়ায় সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটি উচ্ছেদ করতে বলা হয়। পরিবহনমালিকদের পক্ষ থেকে সেটি নামমাত্র উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের পরও এই টার্মিনালে চলছে নিয়মিত কার্যক্রম।

টার্মিনালটির অবস্থান ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম আন্তজেলা বাস টার্মিনালের পাশে। পাটগুদাম আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বাস ছেড়ে যায়। আর নদ দখল করে গড়ে ওঠা টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল করে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান বলেছেন, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। যেসব স্থানে অবৈধ স্থাপনা আছে, সেসব এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

একাধিক পরিবহনশ্রমিক জানান, পাটগুদাম মূল বাস টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় চার বছর আগে এই টার্মিনাল গড়ে ওঠে। এটি ব্রহ্মপুত্র নদের চরে। বছরের বেশির ভাগ সময় সেখানে পানি থাকে না। ভরা বর্ষা মৌসুমে হাতে গোনা কিছুদিন পানি থাকে।

গত ২৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরের কয়েকটি স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। এদিন কাচারি ঘাট, থানা ঘাট ও কালীবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর পাটগুদাম এলাকার অবৈধ বাস টার্মিনালে থাকা কয়েকটি টিকিট কাউন্টারের টিনের চাল, জানালাসহ কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এক দিন অভিযান চালানোর পর আর অভিযান চালানো হয়নি।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে থাকা এই টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল করছে। টিকিট কাউন্টারের ছাদ না থাকলেও ঘরগুলোতে বসে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এই এলাকায় চারটি পরিবহনের নামে পৃথক টিকিট কাউন্টার রয়েছে। একটি কাউন্টারের পাশে দেখা যায় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য সুরম্য বিশ্রামাগার। ওপরে ছাদ না থাকলেও পরিপাটি বিশ্রামাগারে রয়েছে বড় আকারের টেলিভিশন। বাসের কাউন্টার ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকটি দোকান। দোকানগুলো ঘিরে যাত্রীদের ব্যস্ত চলাচল। দোকানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদের এক পাশে।

বগুড়াগামী একটি বাসের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নদের চরে বাস টার্মিনাল হওয়ার বিষয়টি পরিবহনের মালিকেরা জানেন। আমরা শুধু বাস চালাই।’

একটি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা বলেন, বাসের মালিকেরা এই টার্মিনাল, টিকিট কাউন্টার ও বিশ্রামাগার করেছেন। সম্প্রতি সরকারি কর্তৃপক্ষ সেগুলো ভেঙে ফেলতে বলেছে। তাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু মালিকদের পক্ষ থেকে এখনো টিকিট কাউন্টার সরিয়ে নিতে বলা হয়নি।

ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির কোচ বিভাগের সম্পাদক সোমনাথ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মূল টার্মিনালে স্থান সংকুল না হওয়ায় এটি করা হয়েছিল। যখন টার্মিনালটি করা হয়, তখন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই করা হয়। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে টার্মিনালটি উচ্ছেদের কথা বলা হলে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে অন্যত্র জায়গা চেয়েছেন। বিকল্প স্থান পাওয়া গেলে নদী থেকে টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

ফোন না ধরায় এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0