default-image

এরপর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার বালুকুল এলাকায় ট্রাক বিকল হয়ে মহাসড়কে যানজটের শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কের কড্ডার মোড়, মুলিবাড়ী, বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর ও পশ্চিমে নলকা মোড় পর্যন্ত অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকায়। বেলা ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল এ যানজট। এরপর যানজট না হলেও থেমে থেমে চলে গাড়ি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বালুকুল এলাকায় একটি ট্রাক হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় সাময়িক সময়ের জন্য একটু যানজটের সৃষ্টি হয়। রেকার এনে বিকল হওয়া ট্রাকটি সরিয়ে ফেলার পর মহাসড়ক স্বাভাবিক করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই এ মহাসড়কে কখনো ধীরগতি আবার কখনো থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যানজটের তীব্রতা বাড়তে থাকে। পরে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা ও হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় ধীরে ধীরে কমতে থাকে যানজট। তবে যানবাহনগুলো চলতে হয়েছে ধীরগতিতে।

জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান বলেন, ঈদে মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষ বহনকারী যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার ফলে ধীরগতি রয়েছে। মাঝেমাঝে যানজট সৃষ্টি হলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে মাঠে রয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে। আজ রাত থেকে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক থেকে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। পূর্ণ গতিতে যানবাহন চলতে পারছে না। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর, সয়দাবাদ, কড্ডার মোড়, ঝাঐল উড়ালসেতু, নলকা সেতু, হাটিকুমরুল গোলচত্বরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের টহল রয়েছে।

ঢাকা থেকে বগুড়াগামী হানিফ পরিবহন বাসের চালক স্বপন কুমার বলেন, বর্তমানে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এ কারণের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানবাহন একটু ধীরগতিতে চলছে। তবে অন্যবারের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। অনেকটা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন যাত্রীরা।

বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক অবস্থায় এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। তবে বর্তমানে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজায় টোল আদায়ের জন্য লেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় তিন থেকে চার লেনে টোল আদায় করা হয়। ঈদ সামনে রেখে টোল আদায়ের জন্য সাতটি লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর বাইরে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক একটি লেন রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় ঘরমুখী যাত্রীর সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরাও। ফলে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। ঈদযাত্রায় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি স্থানে পুলিশ অতিরিক্ত ২০০ সদস্য কাজ করছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ একটু বেশি হলেও চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

ঈদযাত্রা উপলক্ষে গত সোমবার বিকেল থেকে নবনির্মিত নলকা সেতুর একটি লেন চালু করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে তিন থেকে চার গুণ যানবাহন বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য দ্রুত নলকা সেতুর একটি লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো নলকা সেতুটিও সচল রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম বলেন, ঈদ সামনে রেখে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশের ৪৫০ সদস্য মহাসড়কে কাজ করছেন। মহাসড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় গাড়ির চাপ কয়েক গুণ। এ কারণে মহাসড়কে ধীরগতি রয়েছে। তবে সেই অর্থে যানজট নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন