বিজ্ঞাপন

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আবু হাসেম (৪২) ঈদের এক দিন আগে বগুড়ার ধুনটে গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে যান। পরিবারের সঙ্গে ঈদ শেষ করে আজ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তান আবু হেনা (৪) ও আবু সালেহ (৭)। মহাসড়কের কড্ডার মোড় এলাকায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বগুড়ায় গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। ঈদের ছুটি শেষে আজ থেকে অফিস খুলছে। তাই খুব সকালেই দূরপাল্লার একটি বাসে করে রওনা হয়েছিলাম। পথে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে কড্ডার মোড়ে আসার পর পুলিশ আর বাস ঢাকার দিকে যেতে দিচ্ছে না। এখন দেখি কীভাবে ঢাকায় যাওয়া যায়।’

মহাসড়ক দিয়ে আলী হাসান নামের একজন পরিবার নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে নাটোর থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ঈদের এক দিন আগে ঢাকা থেকে রওনা করে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল। চার ঘণ্টার রাস্তা আসতে সময় লেগেছিল ১২ ঘণ্টা। এখন কর্মজীবী মানুষ আবারও ঢাকামুখী হবেন। তাই আবার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই রওনা করেছি। এখন পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো সমস্যা হয়নি।’

এদিকে মহাসড়কসহ জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ কেউ ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাবনার বেড়া উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছেন আবদুল হাকীম। তিনি গাজীপুরে একটি সুতার কারখানার কর্মী। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির সঙ্গে দুই দিন ছুটি বেশি নিয়েছি, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াব বলে। ঈদের আগের দিন বাড়ি আসছিলাম। ঈদের দিন ও পরের দিন পরিবারকে সময় দিয়েছি। এখন হাতে সময় থাকায় আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাচ্ছি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরব। এখন সড়ক-মহাসড়কে কোনো যানজট লক্ষ করা যাচ্ছে না। মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু দূরপাল্লার বাস যাত্রী নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এসব বাস যাতে সেতু পার না হতে পারে, সে কারণে আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কে কোনো পরিবহন আটকানো হচ্ছে না। মহাসড়কে কোনো যানজটও নেই বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন