default-image

পঞ্চগড়ে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক তরুণ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় ওই কিশোরীর আত্মহত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সে। বর্তমানে ওই কিশোরী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন আহসান হাবীব (১৮) ও তাঁর সহযোগী নজরুল ইসলাম জনি (৩০)।

কিশোরীর পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে ওই কিশোরীর বাবা মারা যায়। এরপর থেকে মা-মেয়ে বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় আহসান হাবীব নামে এক তরুণ কিশোরীকে বিয়ে করাসহ কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে প্রায় তিন মাস আগে আহসান হাবীব ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন আহসান হাবীবকে আটক করে মারধর করেন। এ ঘটনায় সপ্তাহখানেক আগে পঞ্চগড় পৌরসভায় একটি সালিস হয়েছে। তবে সেখানে কোনো সমাধান হয়নি। আজ সোমবার ফের সালিসে বসার কথা ছিল। এরই মধ্যে আহসান হাবীব কিশোরীর বাড়ির সামনে গিয়ে সোমবারের জন্য তিন লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেন এবং তা না হলে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গতকাল রাতে সাড়ে আটটার দিকে ঘরের দরজা লাগিয়ে ওই কিশোরী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে কিশোরীকে উদ্ধার করেন তাঁর মা। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই আহসান হাবীব ও তাঁর সহযোগী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

আহসান হাবীবের চাচা ইয়াসিন আলী অভিযোগ করেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে ওই কিশোরীর প্রতিবেশীদের হাতে মারপিটের শিকার হওয়ার পর আহসান হাবীবের কিছুটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ওর চিকিৎসা চলছিল। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আমরা পঞ্চগড় পৌরসভায় অভিযোগ করেছি। তবে কী কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, তা আমাদের জানা নেই।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. সিরাজউদ্দৌলা পলিন বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো ওই কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, গতকাল রাতেই ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

মন্তব্য পড়ুন 0