বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কৃষক হাসিম মিয়া বলেন, ‘আমরার কাছেই ছয় কিয়ার জমি আছে। কেউ কাঁচি লইয় যাইতো নায় (কাস্তে নিয়ে যাবে না)। ব্রি ধান ৫৮ জাতেও চিটা আছে। তবে অন্য জাতের ধান ভালা অইছে (হয়েছে)।’

অলিয়ারকান্দি এলাকায় রাজনগরের সুমন গৌড় প্রথম আলোকে বলেন, ‘খরার কারণে মেঘ পাইছে না। জমিন হুকনা (শুকনা) আছিল (ছিল)। পানি দিতে পারি নাই। মাটি ফাটি গেছে। যেইখানে পানি আছিল, সেইখানে ধান ভালা অইছে।’

ব্রি ধান-২৮ জাতে মার খাওয়ার কথা বললেন কৃষক বিদ্যাসাগর পাশিও। আর কৃষক লক্ষ্মীচরণ গৌড় বলেন, ‘যেগুলো আগাম রোয়া অইছে (রোপণ হয়েছে), হেই (সেই) ধান পাকছে। বাকি ধান পাকতে আরও দুই সপ্তাহ লাগবো। ২৮–এ মাইর খাইছি। এর মাঝে নিনা (নিচু) জায়গায় খেত। পানির ভয় আছে। মেঘ দিলেই হাঁটুপানি জমি (জমে) যায়।’

এই ভয়টা শুধু লক্ষ্মীচরণ গৌড়ের একার নয়, হাওরপাড়ের প্রায় সবারই। কৃষকেরা জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে এবার সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।

default-image

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউয়াদীঘি হাওর মনু নদ সেচ প্রকল্পের আওতায়। এ বছর প্রকল্প এলাকার হাওরাঞ্চলসহ সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীন রাজনগরের কাশিমপুর এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ে একটি পাম্পঘর আছে। হাওরে পানি বাড়লে পাম্পের মাধ্যমে তা কুশিয়ারা নদীতে বের করে দেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) এম এ হান্নান খান আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পানির উচ্চতার মাত্রা ৩ দশমিক ৩। চার মাত্রার উপরে গেলেই পানি নিষ্কাশন করা হবে। আমরা সেচের জন্য প্রস্তুত আছি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ব্রি ধান-২৮, ২৯, ৮৯, ৫৮, ৯২ জাতের আবাদ হয়েছে। জেলায় ৫৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুৎফুল বারী আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাউয়াদীঘি নিয়ে আমরা এতটা ভাবছি না। সেখানে পাম্পঘর রয়েছে। একটু চিন্তা আছে হাকালুকি নিয়ে। ত্রিপুরায় বৃষ্টি আছে। এতে জুড়ী ও ফানাই নদী দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে পারে। আজও (শনিবার) হাকালুকি দেখতে এসেছি। পাকামাত্রই কৃষকেরা ধান কেটে নিচ্ছেন। সব ধান পাকতে দেড়-দুই সপ্তাহ লাগবে।’

কাজী লুৎফুল বারী আরও বলেন, এবার ২৮ জাতের ধানের আবাদ কম হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চিটার সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই জাতের ধানের বীজ করা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে মেঘ-বৃষ্টি কম থাকায় এবং সূর্যের আলোর কারণে অন্য জাতের ধানের ফলন এবার ভালো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন