উন্নয়ন কাজের অজুহাতে তিন হাজার গাছে কোপ

বিজ্ঞাপন
default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতকরণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ওই সড়কের পাশ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপিত হচ্ছে। এসব কারণে ইতিমধ্যে সড়কের দুই পাশে অন্তত তিন হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে অপরিপক্ব হওয়ায় গাছগুলো নিলামে বিক্রি হয়নি।

সরেজমিন গত রোববার বিকেলে দেখা যায়, সড়কের রত্না চা-বাগান, সমাই বাজার, হাফিজি বড় ডহর ও কলাবাড়ী বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা পড়েছে। অনেক গাছের আগা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। শ্রমিকেরা সড়কের পাশ দিয়ে স্থাপিত খুঁটিতে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন টানছেন। পুঁটিছড়া বিট কার্যালয়ের সামনে বেশ কিছু কাটা গাছ স্তূপ করে রাখা। সড়কের কাজও চলছে।

বিদ্যুৎ লাইন টানার শ্রমিকদের দলনেতা তারা মিয়া বললেন, এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার গাছ কাটা হয়ে গেছে। ঝোড়ো বাতাসে যাতে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণে গাছগুলো কাটা পড়েছে। এর বিকল্প ছিল না।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর জানায়, জুড়ী-বটুলি শুল্ক স্টেশন সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়। ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ও স্পেকট্রা নামের ফরিদপুরের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি পায়। চলতি বছরের (২০২০) জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্র জানায়, জুড়ীসহ পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলায় পিডিবির একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানের চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

দুটি কাজ একসঙ্গে হওয়ার কারণে গাছ কাটা পড়ছে। বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় আকাশমণি প্রজাতির প্রায় চার হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ ছাড়া সড়কটির দুই পাশে কয়েকটি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের এলাকায় রেইনট্রি, কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে। সম্প্রতি সড়ক সম্প্রসারণ ও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের বিষয়টি জানিয়ে গাছ কাটার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেয়। পরে বন বিভাগ গাছ কাটানো শুরু করে। পাশাপাশি বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের গাছগুলো কেটে ফেলছে। তবে অপরিপক্ব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিন দফা নিলাম আহ্বান করলেও কোনো ব্যবসায়ী গাছগুলো কিনতে রাজি হননি।

জুড়ী রেঞ্জের কর্মকর্তা এনামুল হক গতকাল সোমবার বলেন, গাছগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। কাটার আগে বিক্রির জন্য তিন দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়, কিন্তু জ্বালানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে এ কাঠ ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ব্যবসায়ীরা দরপত্র জমা দেননি। এখন গাছগুলো নিজেদের উদ্যোগে কেটে রাখতে হচ্ছে।

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এস এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলতে হচ্ছে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এ কাজে সওজ, পিডিবি, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় থাকলে এত গাছ কাটা পড়ত না। সড়কে কোনো উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা নেওয়া হলে বিষয়টি আগেই জেলা সমন্বয় সভায় তুলে ধরা যেত। তখন হয়তো বন বিভাগ গাছের চারা রোপণ করত না। সরকারি টাকার অপচয় হতো না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন