বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত ওই ডিলারের নাম শেখ কেরামত আলী খান। তিনি ৩২ জন উপকারভোগীর দুই মাসের চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

চাল দেওয়ার আগে ইউপির মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে ডিলারের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কমিটির সভাপতি ও পরিষদের সচিব সদস্যসচিব। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও সভাপতি আর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সদস্যসচিব। নেত্রকোনায় ১০টি উপজেলায় ৮৬টি ইউনিয়নে ১৭১ জন ডিলার রয়েছেন। উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ১১০ জন।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল না পাওয়া ৯৩৭ নম্বর কার্ডধারী সতরশ্রী গ্রামের দিনমজুর মো. ওমর ফারুক, ৫৭৮ নম্বর কার্ডধারী মো. শাহজাহান, ৫৮৫ নম্বর কার্ডধারী সখিনা আক্তার, ৫৯৪ নম্বর কার্ডধারী রহিমা আক্তারসহ অন্তত ১৬ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিনিধির। এ বিষয়ে তাঁরা জানান, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নতুন তালিকায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু তাঁদের কার্ড না দিয়ে ডিলার নিজের কাছে রেখে দেন। পরে ১০ টাকা কেজির চাল কিনতে গেলে ডিলার আরও পরে চাল দেবেন বলে টালবাহানা করেন। বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনিও কোনো সমাধান দিতে পারেননি। তাঁরা জানান, এ পর্যন্ত দুবার চাল বিতরণ করা হয়। সে হিসেবে ডিলার ৬৪০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরাকোনা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে বঞ্চিত ৩২ জন কার্ডধারী এসে বিষয়টি জানালে আমি ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিতে বলি। এ রকম অনেক কার্ডধারীকে ডিলার চাল না দিয়ে তিনি নিজে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে এক দিকে যেমন হতদরিদ্ররা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অসাধু ডিলারের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঠাকুরাকোনা ইউপির চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

৩২ জন উপকারভোগীর চাল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য ডিলার শেখ কেরামত আলী খানের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে গত মঙ্গলবার দুপুরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর গ্রামের বাড়ি অইডহরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি বাড়িতে নেই। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সতরশ্রী বাজারে গেলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ইউএনও মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া মুস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব এই কর্মসূচিতে কোনো অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন