উপকূলের মানুষকে রক্ষা করার দাবি

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে বুধবার মানববন্ধন করে নাগরিক  কমিটি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে বুধবার মানববন্ধন করে নাগরিক কমিটি। প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এক সপ্তাহ আগে জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধে ভাঙন ও জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরাসহ উপকূলের মানুষকে রক্ষার দাবিতে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সামনে কয়েক শ মানুষ মানববন্ধন করেছেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবার সকাল ১০টার দিকে এসব মানুষ ওই মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধন থেকে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরসহ উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত গৃহহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিমের সভাপতিত্বে ওই মানববন্ধন হয়। বক্তারা বলেন, পানিতে ডুবে রয়েছে সাতক্ষীরার অধিকাংশ এলাকা। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ফসলের খেত, মাছের ঘের, শাকসবজিসহ সব ধরনের কৃষি খামার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত। বহু এলাকায় মানুষের রান্নাবান্না করারও জায়গা নেই। মৃত মানুষের দাফন ও সৎকার করতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়াতে হচ্ছে। পয়োনিষ্কাশন, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রাম নয়, সাতক্ষীরা শহরে অবস্থিত সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনস, বিজিবি ক্যাম্প, টেক্সটাইল মিলস, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা কালেকটরেট এলাকাও পানিতে টইটম্বুর। শহরের মানুষও পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পরপরই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনেকেই এই এলাকা পরিদর্শন করেন। এলাকায় নদীর পানি প্রবেশ বন্ধ করা, দ্রুত বাঁধ নির্মাণসহ সব ধরনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। স্থানীয় জনসাধারণ অর্থ দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশ, বস্তা, পেরেক কিনে সাতক্ষীরার বড় ধরনের তিনটি পয়েন্ট ছাড়া আর সব স্থানে রিং বাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানি লোকালয়ে ঢোকা বন্ধ করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে যেনতেনভাবে পানি বন্ধের পর বাঁধগুলো আরও মজবুত করতে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ভেঙে যাওয়া এসব বাঁধের অনেক স্থানে আগে থেকেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। অনেক স্থানে ভাঙার পর জরুরিভাবে কাজ করতে নতুন করে ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়। জরুরি কাজের জন্য নিয়োগ করা অধিকাংশ ঠিকাদার কোনো কাজ করেননি। ফলে সাম্প্রতিক জোয়ারের পানিতে আগের ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো নতুন করে ভেঙে গিয়ে এলাকায় এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এবং সাতক্ষীরাসহ উপকূলের মানুষকে বাঁচানোর আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ, সুধাংশু শেখর সরকার, শেখ আজাদ হোসেন, ওবায়দুস সুলতান, প্রভাষক ইদ্রিশ আলী, মাধব চন্দ্র দত্ত, মনির উদ্দিন, শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সুরেশ পান্ডে, কমরেড আবুল হোসেন, আলী নুর খান, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা পৌরসভায় অবস্থান কর্মসূচি ও স্মরকলিপি পেশ এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

পরে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ ও ২–এর নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর বেড়িবাঁধের নদীর পাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা, সেখানে বৃক্ষরোপণ করা ও যেসব স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙছে, ওই সব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধক স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও প্রয়োজনবোধে ড্রেজিং করাসহ ২৩ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন