default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি (৫০) নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা বেড়েছে। রোববার রাতে চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় চরচারতলা গ্রামের অনেক পরিবারের সদস্যরা ঘরছাড়া। বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে পরিবারগুলোর সদস্যরা অন্য কোথাও ঠাঁই নিয়েছেন।

ওই হামলায় জামাল মুন্সি নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে আশুগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন হানিফ মুন্সির আরেক ছোট ভাই জাহাঙ্গীর মুন্সি।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বাদীর ছেলে রনি মুন্সি নেতৃত্বে চার-পাঁচটি বাড়িঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে শোনা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। এ ধরনের আরও ঘটনা ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উপজেলার চরচারতলা গ্রামে সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িতে বাড়িতে তালা ঝুলছে। বাড়িগুলোতে পরিবারের লোকজন দেখা যায়নি। বাজারের অন্তত ২০টি দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে গ্রামে কিছু পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছেন। পুলিশের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির বাড়ির লোকজনও আছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজের স্ত্রী আইমন আক্তার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে আমাদের পক্ষের পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পলাতক। নারীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই বর্তমানে বাড়িঘরে কোনো নারী নেই। আশুগঞ্জ ফেরিঘাটের আমার স্বামীর পক্ষে রাশেদ মিয়া নামে একজন ইজারা তুলতেন। কিন্তু হানিফ মুন্সির লোকজন তাঁকে সরিয়ে দিয়েছে। তিশা পরিবহনের বাসের কাউন্টার থেকে ভাশুরের লোককেও সরিয়ে দিয়েছে তারা।’

এদিকে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিনের বড় ভাই কুয়েতপ্রবাসী সালাহউদ্দিন খন্দকার, ছোট ভাই জসিম উদ্দিন খন্দকার, ভাতিজা শফিকুল ইসলাম খন্দকার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজ, স্থানীয় বাসিন্দা নোমান মিয়া, কাউসার মিয়া ও শাফি মিয়ার বাড়িঘরের দেয়াল, দরজা, জানালাসহ আসবাব ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন খন্দকারের বড় ভাই কুয়েতপ্রবাসী সালাহ উদ্দিন খন্দকারের স্ত্রী ফরিদা বেগম সোমবার বিকেলে লুকিয়ে নিজের বাড়ির পরিস্থিতি দেখতে যান। তিনি বলেন, ‘৪০ বছরের সাজানো-গোছানো সংসার লুটপাটে সব শেষ। ঘরের বৈদ্যুতিক পাখা ও পানির পাম্পও লুটপাট থেকে বাদ যায়নি। ভয়ে গ্রামে আসতে পারি না।’

default-image

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে আমাদের লোকজন সম্পৃক্ত নয়। তৃতীয় পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আসামিপক্ষের লোকজন নিজেরাই এসব করছে। এমনকি তারা নিজেদের মালামাল নিজেরা সরিয়ে, এখন লুটপাটের অভিযোগ করছে। নতুন একটি মামলা করার জন্য তারা এসব করছে।’
গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে প্রতিপক্ষের ছোড়া বল্লমের আঘাতে নিহত হয়েছেন জামাল মুন্সি। তিনি চরচারতলার মুন্সিবাড়ির ফজলুল হক মুন্সির ছেলে ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই। হানিফ মুন্সি উপজেলার চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

ওই হামলার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন খন্দকার, ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম, তাঁর বাবা উপজেলা বিএনপি নেতা আবু শহীদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজসহ নাম উল্লেখ করে ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০-২৫ জনকে। সব আসামি চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মাসুদ মিয়া (৩৫), মাহবুবুর রহমান (২৫), কাউছার মিয়া (৩৫), খোকন মিয়া (৩৫) ও রনি মিয়া (৩০)। তাঁদের রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন