শিক্ষক নেতারা জানান, আজ সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ঘণ্টাব্যাপী্ ওই বৈঠকে তিনি অসদাচরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। এরপর শিক্ষকেরা তাঁদের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র স্বেচ্ছায় তুলে নেন।

বৈঠকে উপাচার্য মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক এম এম মাহবুব আলম, গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসাইন সরকার, রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করায় শিক্ষকেরা পদত্যাগপত্র তুলে নিয়েছেন। বিষয়টা সুন্দরভাবে সমাধান হয়েছে।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপাচার্য মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদারের মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে আজ সোমবার সন্ধ্যায় গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে উপাচার্য দুখঃপ্রকাশ করায়, তাঁরা কর্মসূচি থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়ি বরাদ্দ নিয়ে ময়মনসিংহ যান। ফেরার পথে গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবহিত না করায় উপাচার্য গত ৩ এপ্রিল রাতে মোস্তফা সামছুজ্জামান ও সুমন পালকে মুঠোফোনে কল দিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। এরপর ওই দুই শিক্ষক বিষয়টি শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের জানান। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ‘লজ্জিত ও বিব্রতবোধ করছেন’ জানিয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদ প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখান থেকে উপাচার্যকে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়।